১০ বছরেও কেন শেষ হয়নি বাখরাবাদ-সিদ্ধিরগঞ্জ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প ?

পাইপলাইন

১০ বছরেও শেষ হয়নি বাখরাবাদ-সিদ্ধিরগঞ্জ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প। এদিকে, গত তিন বছরে মাত্র ২৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে ধনুয়া-এলেঙ্গা গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের। সংশ্লিষ্টরা এজন্য  দরপত্রের বিলম্বিত প্রক্রিয়াকে দায়ী করলেও প্রকল্প পরিচালকের ক্ষমতা এবং যোগ্যতা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।

পাইপলাইন প্রস্তুত না থাকায় আগামী বছর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির শুরুতেই সমস্যা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এক প্রতিবেদনে। জ্বালানি বিভাগের উপপ্রধান মো. আবু ইউসুফ মিয়া স্বাক্ষরিত পৃথক দু’টি প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশসহ এই তথ্য তুলে ধরা হয়। গত ১৭ ডিসেম্বর তিনি  প্রতিবেদন দুটি জমা দেন।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, বাখরাবাদ-সিদ্ধিরগঞ্জ গ্যাস পাইপলাইনটি মূলত নারায়ণগঞ্জ এলাকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরাসরি গ্যাস সরবরাহের জন্য নির্মাণ করা হয়। বিগত ২০০৭ সালে পাইপলাইনটি নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়।

এই পাইপলাইনটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা  এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমন্ট (ইআরপি) বা সফটওয়্যারের মাধ্যমে গড়ে তোলার কথা ছিল। কিন্তু এখনও প্রকল্পের পুরোকাজ শেষ হয়নি। এ পর্যন্ত ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা যায়। অন্যদিকে, ধনুয়া-এলেঙ্গা পাইপলাইনটি ২০১৪ থেকে ২০১৯ মেয়াদে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এ পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতির পরিমাণ ২৬ দশমিক ২৬ ভাগ এবং ভৌত অগ্রগতি ২৫ দশমিক ৫০ ভাগ। এই পাইপলাইনটি নির্মাণ শেষ হলে দেশের পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যাবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

এদিকে, সম্প্রতি জ্বালানি বিভাগে পাইপলাইন নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে পাইপলাইন নির্মাণের অগ্রগতি কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা দরপত্রের বিলম্বিত প্রক্রিয়াকে দায়ী করে। বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালকের ক্ষমতা এবং যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। প্রকল্প পরিচালককে ডেকে নিয়ে কোথায় কী সমস্যা আছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন বিদ্যুৎ জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বৈঠকে জ্বালানি সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী ছাড়াও পেট্রোবাংলা এবং জিটিসিএল-এর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জিটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতিকুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাখরাবাদ-সিদ্ধিরগঞ্জ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও প্রকল্পের ইআরপি’র (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট) কাজ এখনও শেষ হয়নি। দরপত্র প্রক্রিয়ায় দেরির কারণে এখনও প্রকল্পের সব কাজ শেষ হয়নি বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, এলেঙ্গা-ধনুয়া পাইপলাইনটির দৈর্ঘ্য ৬৬ কিলোমিটার। লাইন বসানো হয়েছে ১২ কিলোমিটার, বাকিটা আগামী বছরের মধ্যে বসানো শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট জানায়, ধনুয়া-এলেঙ্গা পাইপলাইনটিতে ছয়টি নদী ক্রসিং এবং একটি সিসি গেইট স্টেশন নির্মাণ করতে হবে। এখন গ্যাসের স্বল্পতা থাকলেও আগামী বছর এলএনজি আমদানির শুরুতে পাইপলাইন প্রস্তত না থাকলে বিপাকে পড়তে হবে।

আরও পড়ুন: 

৯৯৯: মধ্যরাতে খুললো হাসপাতালের দরজা