ঐতিহ্যবাহী ভবনের তালিকায় ঢাকার ৭৫ স্থাপনা

লালবাগ কেল্লারাজধানী ঢাকার ৭৫টি ভবন বা স্থাপনাকে সংরক্ষণের জন্য ঐতিহ্যবাহী ভবনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী নান্দনিক, বৈজ্ঞানিক, সামাজিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের বিবেচনায় এসব ভবন বা স্থাপনাকে বিশেষ ভবন বা স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষণের জন্য তালিকাভুক্ত করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক (রাজউক)।
ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা ২০০৮-এর উপ-বিধি ৬১ অনুযায়ী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ মহাপরিকল্পনাভুক্ত এলাকার ঐতিহ্যবাহী নান্দনিক, বৈজ্ঞানিক, সামাজিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের বিবেচনায় ভবনগুলোকে বিশেষ ভবন-স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষণের জন্য তালিকাভুক্ত করে সাম্প্রতি একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
তালিকাভুক্ত ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে— নারিন্দার বিনত বিবি মসজিদ; চকবাজারের বড় কাটরা ও ছোট কাটর; লালবাগ দুর্গ, সাত মসজিদ রোডের ঈদগাহ, নিমতলির নিমতলি দেউরি; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দোয়েল চত্বর সংলগ্ন মীর জুমলা গেট (ঢাকা গেট); মোহাম্মদপুরের সাতগম্বুজ মসজিদ; মোহম্মাদপুরের বাঁশবাড়ির অপরিচিত পুরাতন সমাধি; পুরাতন হাইকোর্টের শাহবাজ খান মসজিদ ও সমাধি; বেগম বাজারের কারতালাব খান মসজিদ; লালবাগের খান মোহম্মাদ মৃধা মসজিদ; মিটফোর্ট হাসপাতালের পিছনের শায়েস্তা খান মসজিদ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মুসা খান মসজিদ; ইসলাপুরের গোল তালাবা; তেজগাঁওয়ের হলি রোজারিও চার্চ; ওয়ারির খ্রিস্টান সমাধি ক্ষেত্র; হোসেনি দালাল (ইমামবাড়া); অরফ্যানেজ রোডের ঢাকেশ্বরী মন্দির; ঠাটারি বাজারের জয়কালী মন্দির ও রাম সীতা মন্দির; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার শিখ গুরুদুয়ারা; আরমানিটোলার আর্মেনিয়ান চার্চ; আজিমপুরের বড় দায়রা শরীফ; আরমানিটোলার তারা মসজিদ; বংশাল জামে মসজিদ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার শিববাড়ী মন্দির; ফরাশগঞ্জ-লাল কুঠির নর্থ ব্রুক হল; কসাইটুলি মসজিদ, জনসন রোডের সেন্ট থমাস চার্চ; লক্ষীবাজারের সেন্ট গ্রেগরিজ চার্চ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার গ্রিক মেমোরিয়াল; রাখা গোবিন্দ মন্দির; সূত্রাপুরের শ্মশান মন্দির ও মঠ বানিয়ানগর; রাধা গোবিন্দ মন্দির, লালবাগ রাম শাহের মন্দির; বাবুবাজারের আমির উদ্দিন দারোগার সমাধি; নারিন্দার গৌড়ি মঠ; গোপীবাগের রমকৃষ্ণ মিশন; দিলকুশার নওয়াববাড়ী মসজিদ; মীরপুর আমিনবাজরের দেওয়ানবাড়ী কমপ্লেক্স ও মসজিদ; সদরঘাটের বাহাদুর শাহ পার্ক (ভিক্টেরিয়া পার্ক); বাহাদুর শাহ পার্কের পানির ট্যাংক; কারওয়ান বাজারের আম্বর শাহ মসজিদ; বেরাইদের ভুইয়া বাড়ী মসজিদ; সিদ্ধেশ্বরীর কালিবাড়ি; পাতাল খান রোডের লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির; লয়াল স্ট্রিট এলাকার ব্রাহ্মসমাজ মন্দির; লয়েল স্ট্রিটের রাজা রামমোহন লাইব্রেরি; ফরাশগঞ্জের রূপলাল হাউজ; ইসলামপুরের আহসান মঞ্জিল; ওয়াইজ হাউজ; বর্ধমান হাউজ (বাংলা একাডেমি); টিকাটুলির রোজ গার্ডেন; মানুক হাউজ বঙ্গভবন; সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রেসকোর্স গ্যালারি; দয়াগঞ্জের ইসকন মন্দির; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবন; মধুর ক্যান্টিন; পুরাতন হাইকোর্ট ভবন; তোপখানা রোডের চামেরি হাউজ; সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল (পুরাতন রেলওয়ে হাসপাতাল); টিএসসি কমপ্লেক্সের হিন্দু মঠ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, ওয়ারীর বলধা গার্ডেন; জাতীয় সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগর কমপ্লেক্স; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আর্ট কলেজ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি; কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন; কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার; শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ; রায়ের বাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ; বঙ্গবন্ধু জাদুঘর; ধানমন্ডি আবাসিক এলাক; রাজউক ভবন এবং নগরভবন।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সচিব সুশান্ত চাকমা স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘তালিকাভুক্ত ইমারত’ বলতে ইমারত ও ইমারত সংলগ্ন যেকোনও কাঠামো এবং ইমারতের সীমানার মধ্যে অবস্থিত সব অংশ বুঝাবে। নগর উন্নয়ন কমিটির অনুমোদন ছাড়া এ তালিকাভুক্ত ভবন ও স্থাপনার কাঠামো আংশিক বা সম্পূর্ণ অপসারণ, পুনঃনিমার্ণ, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।