পহেলা জানুয়ারির পরও থাকছে মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি-অটোরিকশা!

সিএনজি অটোরিকশাঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত ২০০২ মডেলের আট হাজার ৪২১টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩১ ডিসেম্বর। এর আগে দুই দফায় এই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। এ দফায় ৩১ ডিসেম্বরের পর এই যানবাহনগুলো সড়কে চলাচল করতে পারবে কিনা সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বিআরটিএ। এ অবস্থায় পহেলা জানুয়ারি থেকে পরিবহনগুলো সড়কে থাকতে দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিআরটিএ’র তথ্যমতে, ২০০২ মডেলের আট হাজার ৪২১টি সিএনজিচালিত ফোর স্ট্রোক থ্রি-হুইলার অটোরিকশার ইকোনমিক লাইফ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। এর মধ্যে ঢাকায় রয়েছে পাঁচ হাজার ৫৬১টি এবং চট্টগ্রামে দুই হাজার ৮৬০টি। এরপর থেকে অটোরিকশাগুলো রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না। এজন্য গত ১৬ অক্টোবর অটোরিকশা মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিআরটিএ। সমিতির নেতারা অটোরিকশার মেয়াদ আরও ছয় বছর বাড়ানোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে আগের মতোই বুয়েটের মতামত নেওয়ার অনুমতি চেয়ে ২৩ অক্টোবর বিআরটিএ চিঠি পাঠায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ের ফিরতি চিঠিতে অটোরিকশার ইকোনমিক লাইফ (অর্থনৈতিক মেয়াদ) ১৫ বছরের অতিরিক্ত কত বছর বাড়ানো যায় সে বিষয়ে বুয়েটের মতামত অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে বুয়েটকে চিঠি দেয় বিআরটিএ।

বুয়েটের পক্ষ থেকে বিআরটিএকে জানানো হয়, সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলার অটোরিকশাগুলোর ইকোনমিক লাইফ ১৫ বছরের অতিরিক্ত বৃদ্ধি করা যায় কিনা এবং করা গেলে ইঞ্জিন ও সিলিন্ডার প্রতিস্থাপনসহ কি কি শর্তে করা যাবে তা নির্ণয়ের জন্য বেশকিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ওই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রিপোর্ট দিতে অন্তত ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগবে।

বুয়েটের নির্ধারিত ওই সময়সীমার আগেই পরিবহনটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এজন্য বুয়েটের মতামত পাওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন অন্তত ছয় মাস যাতে কোনও ধরণের হয়রানি করা না হয় সে জন্য গত ১১ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমিত চেয়েছে বিআরটিএ। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত দেয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. নুরূল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বুয়েট জানিয়েছে তাদের মতামত দিতে অন্তত ৬-৮ সপ্তাহ সময় লাগবে। এর মধ্যেই সব সিএনজি-অটোরিকশার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এজন্য আমরা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি বুয়েটের মতামত পাওয়া পর্যন্ত যাতে অন্তত ছয় মাস অটোরিকশাগুলো চলাচল করতে দেওয়া হয়। সড়কে যাতে কোনও হয়রানি করা না হয়। আমরা মন্ত্রণালয় থেকে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত পাইনি। রবিবার সময় আছে। মন্ত্রণালয় হয়তো একটা সিদ্ধান্ত দেবে। আবার নাও দিতে পারে। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলবে। এক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু নেই।

২০০২ সালে ৯ বছর মেয়াদ ধরে অটোরিকশাগুলো আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১১ সালে প্রথম ১ বছর, ২০১২ সালে আবার ১ বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এরপর ২০১৪ সালে আবার ৪ বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর এই মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এখন আরও ৬ মাস সড়কে চলাচলের অনুমতি দিতে সুপারিশ করা হয়েছে। মালিকদের দাবি মেয়াদ আরও ছয় বছর বাড়ানোর। সে লক্ষ্যে গত নভেম্বরে মালিকদের পক্ষ থেকে সিএনজি অটোরিকশার ইঞ্জিন ও গ্যাস সিলিন্ডার পরিবর্তন করে এর মেয়াদ ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২১ বছর করার জন্য আবেদন করা হয়। এজন্য বুয়েটের কাছ থেকে পরীক্ষা করে মতামত নেওয়ার পরামর্শও দেয় তারা।

জানতে চাইলে ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পাঁচ বছরের সিএনজি অটোরিকশাকে দুই ধাপে ১৫ বছর বাড়ানো হয়েছে। এখন আবার বাড়ানোর চক্রান্ত চলছে। আমরা শুনেছি এরইমধ্যে আরও তিন বছর বাড়ানোর জন্য মালিকরা ব্যাংকে এক হাজার ১৬০ টাকা করে জমা দিয়েছেন। আমাদের দাবি, যদি এর মেয়াদ বাড়ানো হয় তাহলে মালিকদের জমা যাতে ৯০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা করা হয়। কারণ তারা ৫ বছরের ইকোনমিক লাইফসম্পন্ন সিএনজি দিয়ে ১৫ বছর ব্যবসা করেছেন। এখন মেয়াদ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এই ১৫ বছরে এক লাখ ৭০ হাজার টাকার অটোরিকশা দিয়ে তারা ৭০ লাখ টাকা আয় করেছেন। তাহলে জমার টাকা কমালে তো ক্ষতি নেই।

জানতে চাইলে সিএনজি চালক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘৩১ তারিখেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে। জানি না কি সিদ্ধান্ত হয়। সড়কে থাকতে পারবো কিনা তা-ও জানি না। সুযোগ পেলে তো পুলিশ হয়রানি করবেই।

আরও পড়ুন:
ঢাবি শিক্ষকের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে শিক্ষিকা উদ্ধার