প্রিয়নন্দিনী বলেন, ‘মায়ের অবস্থা তেমন ভালো নেই। এখন ল্যাবএইডে ভর্তি আছেন। বাসায় আনার পরে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল এবং হাত-পা ফুলে গিয়েছিল। তখন আমরা তাকে জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য নিয়ে যাই।’
তিনি বলেন, ‘মায়ের হাত-পা ফুলে যাওয়ায় প্লাস্টারে সমস্যা হচ্ছিল। তখন তার প্লাস্টারটা চেঞ্জ করার জন্য বিএসএমএমইউতে নিয়ে যাই। তারা নতুন করে প্লাস্টার করে দেয়। পরে, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে ল্যাবএইডে নিয়ে আসি।’
ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর বর্তমান শারীরিক সমস্যা প্রসঙ্গে তার মেয়ে বলেন, ‘মায়ের শ্বাসকষ্ট আছে, আবার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম। তাকে রক্ত দেওয়া হয়েছে। এখনও তার পায়ে প্লাস্টার করা আছে। বুকে চাপ লাগায় তিনি শুয়ে থাকতে পারছেন না।’
ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর চিকিৎসা প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির (বিএসএমএমইউ) সহযোগী অধ্যাপক ও বাংলাদেশ স্টেমসেল অ্যান্ড রিজেনারেটিভ মেডিসিন সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিনি (ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী) এখন ল্যাবএইডে ভর্তি আছেন। তার ওল্ডেজ কমপ্লিকেশন্স আছে। তার রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ অনেক কমে গিয়েছিল। তার শ্বাসকষ্টও আছে। তাকে রক্ত দেওয়া হয়েছে। ডাক্তাররা তাকে দেখছেন।’
উল্লেখ্য, গত ৮ নভেম্বর বাড়ির বাথরুমে পড়ে আঘাত পান ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। সে সময় তাকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে গত ২৩ নভেম্বর বিএসএমএমইউয়ের হেপাটোলজি (লিভার) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের অধীনে ভর্তি করা হয় তাকে। গত ২০ ডিসেম্বর তাকে বাসায় নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। তবে এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে আবার বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে পরে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
তিনি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও লিভার, কিডনি, ইউরিন ও থাইরয়েডের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। গত ১০ ডিসেম্বর বিএসএমএমইউয়ের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নকুল কুমার দত্ত তার বাম পায়ের গোড়ালির সমস্যার কারণে অস্ত্রোপচার করেন।
ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী (৭০) মহান মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতনের শিকার হন। গত বছরের ১১ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সরকার। সেসময় তিনিসহ ১২৩ জন নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পান।