‘শিক্ষার দর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে হবে রাজনৈতিকভাবে’





হারুন উর রশীদআমাদের শিক্ষার দর্শন কি হবে তা রাজনৈতিকভাবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ হারুন উর রশীদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার দর্শনটা কি— সেটা রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। পদার্থ বিজ্ঞান কিংবা জীববিজ্ঞান, সেই জায়গাগুলো নিয়ে কিন্তু কথা ওঠে না। কথা ওঠে বাংলা বইয়ে। শিক্ষাব্যবস্থা কি হবে, পাঠ্য বই কি হবে— এই বিষয়টি আমাদের রাজনৈতিকভাবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (০৪ জানুয়ারি) বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে ‘আমাদের পাঠ্যবই’শীর্ষক বৈঠকিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিক হারুন উর রশীদ বলেন, ‘রাজনীতি কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে? নিয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট কিন্তু বদলে গেছে। বাংলাদেশে একটি শক্তির উত্থান কিন্তু দেখা গেছে। সেটা হলো হেফাজত। এখন আরেকটি শক্তির উত্থান হয়েছে, সেটা হলো জামায়াতে ইসলামী। এখন এই দুই শক্তির মধ্যে সরকার ভর করছে কাকে? সরকার তাদের ওপরই ভর করছে, যাদের সরকারের দরকার আছে। দরকারের ক্ষেত্রে জামায়াতকে নেবে না। থাকলো কে? হেফাজত। এবং আমি প্রমাণ করতে পারবো, জামায়াতকে সরকারের কাছে ভেড়ানোর কোনও সুযোগ নাই। কারণ এখানে অনেকে বসে আছেন, তাদের (জামায়াত) ভিড়তে দেবে না। সরকার হেফাজতকে কেন নেবে? হেফাজত একটি বড় গোষ্ঠী। তারা কিন্তু রাজনৈতিক দল নয়। তাদের সে ক্যাপাসিটি আছে। সরকার কেন ব্যাখ্যা দেবে পরিবর্তনের? ভোটের হিসাব রাখতে হলে সব ব্যাখ্যা দেওয়া যাবে না। আমরা জিজ্ঞেস করলে যখন কিছু বলে না, তখন বুঝে নিতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীকে বারবার বিভিন্ন সময় কথা বলার জন্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি। অন্য একটি ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে ফোন দিয়েছিলাম। তিনি প্রথমেই বলে নিয়েছেন এই এই বিষয়ে কথা বললে তিনি ফোন রেখে দেবেন। এবং তাকে এ বিষয়ে কথা বলা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই ফোন রেখে দিলেন। বিষয়টিকে উনি নিজেই স্পর্শকাতর করে ফেলছেন কিন্তু এ বিষয়টা স্পর্শকাতর না।’
সাংবাদিক মুন্নি সাহার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে আরও অংশ নিয়েছেন উদ্দীপন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামলী নাসরিন, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক, বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী ও বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক রশিদ আল রুহানী।

আরও পড়তে পারেন: ‘এ বছর রবীন্দ্রনাথ আছে’