রবিবার (৭ জানুয়ারি) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে শিশুটির মায়ের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার অনীক আর হক ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা।
গত ২০ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে আজ রবিবার শিশুটিকে আদালতে হাজির করতে তার চাচা রিপন ও দাদি সুষমা গাইনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আজ আদালত আইনজীবীর কাছে জানতে চান, শিশুটিকে হাজির করা হয়েছে কিনা? জবাবে ব্যারিস্টার অনীক বলেন,না।
এসময় আদালত আরও জানতে চান, ‘শিশুটির বাবা কোথায়?’ জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘বাবার কোনও ট্রেস (সন্ধান) নেই। সম্ভবত শিশুটিকে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিশুর দাদি জানিয়েছেন, আমি তাকে (নীল) দেবো না,যা হওয়ার তাই হোক।’
আদালত ফের জানতে চান, মায়ের কাছ থেকে ২২ মাসের শিশুকে বাবা কিভাবে নিলেন? জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘শিশুটির দাদা বাড়ি খুলনায়। আর তার বাবা ডেমরায় ব্র্যাকে চাকরি করতেন। দেখা করার কথা বলে প্রায়ই চাচা ও দাদি তাকে খুলনায় নিয়ে যেতেন। গত বছরের এপ্রিলে শিশুটিকে নিয়ে আর ফেরত দেননি তারা। এরপর শিশুটির বাবারও খবর পাওয়া যায়নি।’
এরপর আদালত বলেন, হাজিরের আদেশ পৌঁছেছে কিনা এটা জানাতে হবে। আগামী রবিবার পর্যন্ত স্ট্যান্ডওভার রাখা হলো।
পরে ব্যারিস্টার অনীক সাংবাদিকদের বলেন, ‘নীলের মাকে ফোনে নীলের দাদি বলেছেন, আমি তাকে দেবো না। যা হওয়ার তাই হোক। নীলের মা এটাও শুনেছেন, যে তাকে সম্ভবত ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’
গত ২০ ডিসেম্বর নীলকে ৭ জানুয়ারি আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে শিশুটির চাচা রিপন ও দাদি সুষমা গাইনকে শিশুটিকে আদালতে নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। রিটটি করেছিলেন শিশুটির মা।
উক্ত রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, খুলনার পুলিশ কমিশনার, সোনাডাঙ্গা থানার ওসি, দাকোপ থানার ওসি, শিশুর চাচা রিপন, দাদি সুষমা গাইনকে বিবাদী করা হয়।
নীলের মা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘২০১৫ সালের ১০ মার্চ ধর্মান্তরিত হন তিনি। আর ৩০ মার্চ লিটনকে বিয়ে করেন। প্রাথমিকভাবে লিটনের পরিবার এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। ফলে বিয়ের কয়েক মাস পর যৌতুকের দাবিতে আমার স্বামী, তার ভাই রিপন ও মা সুষমা গাইন আমার ওপর নির্যাতন চালায়। এ নিয়ে আমি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাও করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাচ্চা হওয়ার পর প্রায়ই ওর বাবা নীলকে দাদা বাড়ি নিয়ে যেতো। গত বছরের ১৭ এপ্রিল আমার সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও বাচ্চাকে আর আমার কাছে ফেরত দেয়নি। আমার স্বামীও আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেনি। এ ঘটনার সুরাহা করতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার কাছে দ্বারস্থ হয়ে কোনও প্রতিকার পাইনি। পরে আমি হাইকোর্ট রিট করি।’