সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ওপর কমপক্ষে এক হাজার চারটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল কমপক্ষে এক হাজার ৪৭১টি।
বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার তথ্য উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘গত বছর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৮২ জন এবং ২২টি রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিভিন্ন সহিংস হামলা ও শারীরিক নির্যাতনে আহত ও জখম হয়েছেন ৩২৫ জন, অপহরণের শিকার হয়েছেন ১৮ জন, ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ৪৪টি। এর মধ্যে চারটি ঘটনায় ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।’ প্রতিবেদনে জমিজমা, ঘরবাড়ি, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ৪৭১টি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, ২২৮টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাও রয়েছে।
রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘২০১৬ সালে হলি আর্টিজনে হামলার পর প্রধানমন্ত্রীর সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণায় গৃহীত পদক্ষেপের কারণে ২০১৭ সালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা কিছুটা কমে এসেছে। তা সত্ত্বেও এ বছরে এক হাজারেরও বেশি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আনুমানিক ৩০ হাজার ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ তবে সহিংস ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হবে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের সভাপতিসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, গত বছর সংখ্যালঘু ও আদিবাসী এলাকায় ব্যাপক অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে রাঙামাটির লংগদুতে পাহাড়িদের ওপর হামলা সবচেয়ে ভয়াবহ।
আরও পড়ুন-
তীব্র শীতে বাড়ছে শিশুদের রোগ
অর্ধ শতকে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৬