মিয়ানমার সরকারের দাবি, গত শুক্রবার হাতে তৈরি বোমা ও অস্ত্র নিয়ে ২০ জন ‘চরমপন্থী বাঙালি সন্ত্রাসী’ সামরিক বাহিনীর একটি গাড়ির ওপরে হামলা চালিয়েছে। ওই গাড়িতে করে একব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। হামলায় তিন জন আহত হয়।
এদিকে, মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দ্য আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। রবিবার (৭ জানুয়ারি) এক টুইট বার্তায় রাখাইনে একটি সামরিক ট্রাকে চালানো হামলার দায়ও স্বীকার করে সংগঠনটি। রোহিঙ্গাদের রক্ষায় মিয়ানমার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় অব্যাহত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিকল্প নেই বলেও এই বার্তায় উল্লেখ করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত অনুপ কুমার চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের রাখাইনে প্রত্যাবাসনের জন্য আগামী ১৫ জানুয়ারি ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ চূড়ান্ত হওয়ার কথা। এর ঠিক ১০ দিন আগে আরসা এই হামলা কেন চালালো। ’’
অনুপ কুমার চাকমা বলেন, ‘গত ২৪ আগস্ট কফি আনান কমিশন তাদের রিপোর্ট প্রদান করে, যেখানে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। এর ঠিক একদিন পরে আরসা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ওপরে হামলার করলে, এই অজুহাতে রোহিঙ্গা জাতির ওপর নিপীড়ন শুরু হয়।’
তিনি বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্নে আরসার কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। তারা যেটাই করে, সেটি মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাচ্ছে এবং রোহিঙ্গারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি খুঁজে বের করা দরকার যে, আরসা কাদের হয়ে কাজ করছে। কারণ, বেশির ভাগ রোহিঙ্গাই তাদের সমর্থন করে না।’
এ বিষয়ে মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে মোহাম্মাদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘মিয়ানমার বাহিনী দাবি করছে যে, তাদের ওপরে আরসা আক্রমণ করেছে। কিন্তু এটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করার কোনও উপায় নেই।’
তিনি বলেন, ‘এই আক্রমণ আরসা করেছে কিনা সেটি বিবেচনায় না নিয়েও বলা যায়, তাদের কার্যক্রম রোহিঙ্গাদের সহায়তা না করে বরং মিয়ানমার সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করছে।’
শহীদুল ইসলাম আরও বলেন,‘রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরু হবার আগে, তারা দুই ডিভিশন সৈন্য রাখাইনে মোতায়েন করেছিল। আগে থেকে পরিকল্পনা ছাড়া বর্ষাকালে যেভাবে রোহিঙ্গাদের গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটি করা প্রায় অসম্ভব। কারণ, রাখাইনে পেট্রোল বা ডিজেল সহজলভ্য নয়।’
আরসা হামলা করেছে বলে মিয়ানমার সরকারের দাবিকে সাজানো নাটক অভিহিত করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন সাবেক কূটনীতিক বলেন, ‘যখনই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়টি সামনে আসে, তখনই মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর আক্রমণ শুরু হলে সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে থেকে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে।