রমনা থানা পুলিশের পাশাপাশি কাকরাইল মসজিদের মূল ফটকের বাইরে অবস্থান করছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চের (ডিবি) সদস্যরা। এছাড়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
জানা যায়, মসজিদের মূল ফটক দিয়ে সব মুসল্লি প্রবেশ করতে পারছেন না। শুধু ভেতরে অবস্থানরত মুসল্লিরা কাউকে পরিচিত মনে করলে তাকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে অনেকেই মসজিদে যেতে পারেননি।
অন্তত অর্ধশত মুসল্লি মসজিদের বাইরে অপেক্ষা করছেন। কয়েকজন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মাওলানা সা’দকে একনজর দেখার জন্য মসজিদের সামনে তারা উপস্থিত হয়েছেন। তাদের দাবি, বুধবার আসরের নামাজের আগ থেকে মূল ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে। ভেতরে পরিচিত ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। যারা নামাজ পড়তে এসেছিলেন তাদেরকে অন্য মসজিদে যেতে বলেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
কঠোর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রমনা থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মাওলানা সা’দের বাংলাদেশে আসা ও ইজতেমায় অংশগ্রহণকে ঘিরে তাবলীগ জামাতের একটি অংশ ও কওমিপন্থীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে এই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ডিএমপি রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সর্দার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এখানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাইরে অবস্থান করছেন। মাওলানা সা’দ ভেতরে আছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এখনও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’
এর আগে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান মাওলানা সা’দ। বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে পুলিশি পাহারায় তাকে কাকরাইলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
আসন্ন বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে মাওলানা সা’দের ঢাকায় আসার বিরোধিতা করছেন বাংলাদেশ-ভারতের তাবলিগ জামাতকর্মী ও কওমিপন্থী আলেমদের একাংশ। আরেক তাবলিগ কর্মী শাহরিয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ৭ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসায় তাবলিগের শুরা উপদেষ্টা, শুরা সদস্য ও ভারতে সফরকারী প্রতিনিধি দলসহ ২১ জনের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সবাই সা’দের ঢাকায় আসার বিপক্ষে মত দিয়েছেন। এরপরও মাওলানা সা’দ বাংলাদেশে আসায় তাবলিগের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।’
বিরোধীরা বলছেন, দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে সা’দের ‘বিতর্কিত’ বক্তব্যের কারণে তার সঙ্গে কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আহমদ শফীসহ বাংলাদেশের সিনিয়র আলেমরাও চান, বিশ্ব ইজতেমায় সংঘর্ষ এড়াতে সা’দ ও তার অনুসারী বা বিরোধীরাও যেন ইজতেমায় অংশ না নেন। যদিও সা’দের ঢাকা সফরের পক্ষে রয়েছেন তাবলিগের শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ খান শাহাবুদ্দীন নাসিম, অধ্যাপক ইউনূস শিকদার ও মাওলানা মোশাররফ হোসাইন।
মাওলানা সা’দ ইজতেমায় অংশ নেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তার পক্ষের শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার বিষয়ে আলেমদের যে বক্তব্য তা আমরা শুনবো, এরপর দেখা যাবে তিনি ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেন কিনা।’