‘কোনও রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মাধ্যমে ৫ বছর ক্ষমতায় থাকে। আওয়ামী লীগ এরইমধ্যে ৪ বছর পার করেছে। আগামী আরও একবছর তাদের হাতে সময় রয়েছে। বিগত চার বছর ও আগামী ১ বছরের কর্মকাণ্ডের ওপরই নির্ভর করবে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় যাবে কিনা।’ বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) বিকালে বাংলা ট্রিবিউন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের ৪ বছর’ শীর্ষক বৈঠকিতে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলা ট্রিবিউন বৈঠকিঅনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে এটিএন নিউজ। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজে লাইভ দেখানো হয় বৈঠকিটি। এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী, বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, সাংবাদিক ও কলামিস্ট বিভুরঞ্জন সরকার এবং বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ হারুন উর রশীদ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সাংবাদিক ও কলামিস্ট বিভুরঞ্জন সরকার বলেন, ‘আমরা যদি প্রতিদিনের বিষয়গুলো খেয়াল করি, যেমন গুম-খুন, ছাত্রলীগের দৌরাত্ম্য এবং দলীয় লোকজনের বাড়াবাড়ি তাহলে সরকারের নেতিবাচক চিত্রই সামনে ভেসে ওঠে। দেশে সুশাসনের ঘাটতি অবশ্যই চোখে পড়ে। আবার সরকারের উন্নয়নের কর্মকাণ্ডের চিত্রও চোখে পড়ে। আওয়ামী লীগের সরকারে মোটাদাগে দৃশ্যমান সফলতা যেমন আছে তেমনি দৃশ্যমান ব্যর্থতাও আছে।’
বিভুরঞ্জন সরকারতিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তার ইশতেহার অনুয়ায়ী কাজ করছে কিনা তা জনগণই ভালো বলতে পারে। কারণ তারাই কোনও একটি লক্ষ্য নিয়ে প্রার্থীকে ভোট দেয়। ফলে সেই লক্ষ্য পূরণ হলো কি না তারা বুঝতে পারে। ফলে আমি মনে করি একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসবে কি আসবে না তা নির্ধারণ করবে জনগণ। গত ৪ বছরের অভিজ্ঞতাসহ আগামী এক বছরের কর্মকাণ্ডের ওপরেই নির্ধারণ হবে দলটির ভবিষ্যৎ।’
ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পিসংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলেই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, আমাদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। যে বাজেট দেওয়া হচ্ছে তা উন্নয়নের ধারার সঙ্গে যথেষ্ট সঙ্গতিপূর্ণ। বিশ্বের কাছে আমরা আজ রোল মডেল। সবচেয়ে বড় অর্জন পদ্মাসেতু। এই পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন না করে ভুল করেছে বলে স্বীকার করেছে। আমরা নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে পরিণত হয়েছি। বিদ্যুৎখাতে অনেক উন্নয়ন ঘটেছে।’
মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলআওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘আমরা কোনোক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। জাতি এর সুফল পাচ্ছে। এই সুফল নিয়েই আগামী নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। আমরা যখন যে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছি আমাদের বিপরীত রাজনৈতিক দল (বিএনপি) তখন শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সহিংস আন্দোলন করে। তারা আগেও এভাবেই রাজনীতি করেছে। আওয়ামী লীগের ভিশন-২০২১ অনুসরণ করে তারাও ভিশন-২০২৩ ঘোষণা করেছে। তাদের মৌলিকত্ব নেই। তারা যদি সত্যিকার অর্থে রাজনৈতিক দল হতো তাহলে তাদের রাজনৈতিক গঠনমূলক পরিকল্পনা থাকতো।’
বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, ‘বর্তমানে জিডিপি ৭.২৮ হয়েছে, যার জন্য সরকার বলে এটা তাদের অবদান, কিন্ত সে বিষয়ে আমি একটু বলতে চাই। জিডিপি তৈরি হয় দেশের উৎপাদন, যেমন গার্মেন্ট শ্রমিকদের শ্রম, কৃষকদের কৃষিকাজের মাধ্যমে। এসব তাদেরই অবদান। এটা তো কনটিনিউয়াস প্রোসেস, সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হবেই।’
ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনস্বাস্থ্যখাত নিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘বর্তমানে গ্রামের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই খারাপ। তারা ঠিকমত চিকিৎসা পাচ্ছে না। আমি তো চিকিৎসক, গ্রামে গ্রামে গিয়ে এই চিত্রটা আমি দেখি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ৪ বছর গুম খুনের যে চিত্র তা ইতিহাস রচিত হয়েছে। গত ৪ বছরে ইলিয়াস আলীসহ শতশত সাধারণ মানুষ গুম হলেন। যারা ফিরে আসেন তারা বোবা হয়ে যায়। বিএনপি ঢাকায় মিছিল-মিটিং করতে পারে না, কিন্তু তারা (আওয়ামী লীগ) ঠিকই করে যাচ্ছে। এটাই কি গণতান্ত্রিক চর্চা?’
বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ হারুন উর রশীদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনের আগে বেশ কিছু ইশতেহার দিয়েছিল। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইশতেহার ছিল সুশাসন। সুশাসনের শর্ত হচ্ছে মানুষ কথা বলতে পারবে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, রাজনৈতিক দলগুলো তার গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা করতে পারবে। এগুলোই নিশ্চিত হওয়া। সেগুলো এই সরকারের সময় কতখানি হচ্ছে, তা বিবেচনা করেই মানুষ নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে কিনা।’
বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ হারুন উর রশীদগুমসহ অন্যান্য অনেক বিষয়ে সাংবাদিকদের ওপর একটি ‘সাইকোলজিক্যালি সেন্সরশিপ’ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সাংবাদিকরা রি-থিংক করি। কিন্তু আমি গত ১৮ বছর ধরে সাংবাদিকতা করি, আগে তো কখনও এমন সেন্সরশিপের চিন্তুা মাথায় আসেনি, কিন্তু এখন খুব অনায়াসেই মাথায় চলে আসে।’