ধর্মঘট ডেকে নিজের প্রতিষ্ঠান খোলা রেখেছেন শিক্ষক নেতা

রহমতুল্লাহ মডেল হাই স্কুলে শিক্ষার্থীদের জটলা

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে ১০ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলন করে আসছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক নেতারা। তবে সরকার তাদের দাবির প্রতি সাড়া না দেওয়ায় দেশের সব প্রতিষ্ঠানে ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি (শনিবার ও রবিবার) দু’দিন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে শিক্ষক নেতাদের ছয়টি সংগঠন নিয়ে গঠিত ‘শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরাম’। অথচ শনিবার সারাদিন রাজধানীর লালবাগে  ‘রহমতুল্লাহ মডেল হাই স্কুল’ খোলা ছিল। এই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার হাওলাদার আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতাদের একজন। তিনি ‘বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়ন’-এর সভাপতি।এই সংগঠনটি আবার ‘শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরাম’ এর সদস্য।

শনিবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে। বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি উচ্চ বিদ্যালয়, আজিমপুরের ওয়েস্ট এন্ড হাই স্কুল, লালবাগ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নতুন পল্টন লাইন উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি স্কুল সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, স্কুলগুলোতে কেবিনেট নির্বাচন, বার্ষিক মিলাদ মাহফিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলছে। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরের স্কুলগুলোতেও ছিল একই চিত্র।

রহমতুল্লাহ মডেল হাই স্কুলের মাঠে খেলছে শিক্ষার্থীরা

রাজধানীর রহমতুল্লাহ মডেল হাই স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করছে। ভেতরে প্রবেশ করে চোখে পড়লো কয়েকজন শিক্ষার্থীর জটলা। প্রধান শিক্ষক তার কক্ষে কয়েকজন শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে বৈঠক করছেন। জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক গাউসুল হক মোল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ  (শনিবার) শিক্ষার্থীদের কেবিনেট নির্বাচন চলছে। ফলে স্কুল খোলা রাখতে হয়েছে। তবে আমরা ধর্মঘটের পক্ষে আছি।’

এই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার হাওলাদার। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়নের সভাপতি। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠান খোলা রেখেছেন, শিক্ষার্থীদের কেবিনেট নির্বাচন করছেন, তাহলে ধর্মঘট পালন হচ্ছে কিভাবে? এ প্রশ্নে আবুল বাশার বলেন, ‘আমাদের কোনও ক্লাস হয়নি। শুধু কেবিনেট নির্বাচনের জন্য স্কুল খোলা রাখতে হয়েছে। কেবিনেট নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এটা বছরে একদিনই হয়। কেবিনেট নির্বাচন না হলে শিক্ষার্থীদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই নির্বাচনটি সম্পন্ন করতে হয়েছে। তবে ধর্মঘট তো চলছেই।’ এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালের দিকে তাদের দুই-একটি ক্লাস হয়েছে।

ওয়েস্ট এন্ড স্কুল খোলা, ভেতরে চলছে কেবিনেট নির্বাচন

রহমতুল্লাহ মডেল হাই স্কুলের পাশেই অবস্থিত ওয়েস্ট এন্ড হাই স্কুলেও শনিবার কোনও ধর্মঘট ছিল না। কেবিনেট নির্বাচনের কারণেই স্কুলটি খোলা রেখেছেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল ব্যাপারী।

বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা ধর্মঘটের জন্য স্কুল বন্ধ রাখিনি। বার্ষিক অনুষ্ঠান চলছে, তাই ক্লাস বন্ধ রয়েছে।তবে ক্লাস না হলেও স্কুল খোলা রয়েছে।’

ময়নসিংহ, কুমিল্লা, ফেনীসহ বেশ কয়েকটি জেলা থেকেও খবর পাওয়া গেছে, ওইসব জেলা ও উপজেলার বেশিরভাগ স্কুল-কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউনের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি আতাউর রহমান জুয়েল জানিয়েছেন, শনিবার সারাদেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোতে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন থাকায় ময়মনসিংহের স্কুলগুলো ধর্মঘটের বাইরে ছিল। শহরের বিভিন্ন স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন।

ওয়েস্ট এন্ড স্কুলের মাঠে খেলছে শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. চাঁন মিঞা জানান, সরকারি নির্দেশে শনিবার স্কুলে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন থাকায় ধর্মঘট করা হয়নি। তবে  রবিবার ২৮ জানুয়ারি  শিক্ষক সংগ্রাম পরিষদ কেন্দ্রীয়ভাবে সাংবাদিক সম্মেলনে  পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

বাংলা ট্রিবিউনের কুমিল্লা প্রতিনিধি মাসুদ আলম জানান, কুমিল্লায় এমপিওভুক্ত সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে শনিবার জেলার অর্ধেক প্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করা হয়েছে। ধর্মঘটের প্রথম দিন শনিবার কুমিল্লার আদর্শসদর, সদর দক্ষিণ, বরুড়া,লাকসাম, চৌদ্দগ্রাম, মনোহরগঞ্জ, মুরাদনগর, দেবিদ্বার, চান্দিনা, বুড়িচং, দাউদকান্দি, নাঙ্গলকোটসহ জেলার অর্ধেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধর্মঘট পালন করেছেন শিক্ষক ও কর্মচারীরা। এতে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে। রবিবারও এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

 

 আরও পড়ুন: দাবি আদায় না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাগাতার ধর্মঘটের হুমকি