নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এবং পদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ প্রায় ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বহু চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শুধু মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।’ তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের ভূমিকা পালনসহ ইন্দোনেশিয়ার মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইন্দোনেশীয় জনগণের সমর্থন এবং ১৯৭২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জনক ড. সুকর্নের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। দুই দেশের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে অভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মূল্যবোধের অংশীদার। আগামী দিনগুলোতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আমি আশাবাদী।’
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মর্যাদাসহ রাখাইনে তাদের নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে ইন্দোনেশিয়া সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার ফার্স্ট লেডি ইরিনা জোকো ভিদিদো রাষ্ট্রপতির স্ত্রী রাশিদা খানমের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় আবদুল হামিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো দুই দিনের সরকারি সফরে শনিবার ঢাকা পৌঁছেছেন। শনিবার রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে তার সরকারি সফর শুরু করেন। তিনি রবিবার সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। পরে তিনি ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট উইদোদো বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে কক্সবাজারে যাবেন। দুই দিনের সরকারি সফর শেষে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। সূত্র: বাসস।