ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে তিন চুক্তি ও দুই সমঝোতায় যা রয়েছে

ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে তিন চুক্তি ও দুই সমঝোতা সইবাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, কূটনীতি, মৎস্য খাত এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য পাঁচটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে চুক্তি তিনটি, দুটি সমঝোতা। রবিবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো’র উপস্থিতিতে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়।

দু’নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে দু’দেশের মধ্যে অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা সংক্রান্ত চুক্তি, দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক আয়োজনে সমঝোতা, মৎস্যসম্পদ আহরণ সংক্রান্ত বিষয়ে যৌথ সম্মতিপত্র, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) টার্মিনালে অবকাঠামো উন্নয়ন ও এ সংক্রান্ত বিষয়ে দু’টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইনগারটিয়াস্তো লুসিতানিয়া নিজ নিজ দেশের পক্ষে যৌথ মন্ত্রিসভা পর্যায়ের ‘অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সম্প্রসারণ’ বিষয়ক বিশেষ বাণিজ্য চুক্তি’ করার জন্য আলোচনার শুরুর ঘোষণায় সই করেন।ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ চালুর বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী রেটনো মারসুদি।

মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী রেটনো মারসুদি সাগরে বেআইনিভাবে মৎস্য আহরণ বন্ধে দু’দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একটি যৌথ ঘোষণায় সই করেন।
তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ও এলএনজিভিত্তিক একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দুইটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রথম চুক্তিটি হয় একটি এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং ওই কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ বিষয়ে। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ এবং ইন্দোনেশিয়ার পক্ষে ইন্দোনেশিয়ার কোম্পানি পারটামিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট জিনানজার সোফিয়ান সই করেন।ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
আরেকটি হচ্ছে এলএনজি আমদানি বিষয়ে। বাংলাদেশের গ্যাস  সংকট মোকাবিলায় সরকার এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া থেকেও এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা করেছে সরকার। এই এলএনজি আনতে পেট্রোবাংলা ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে চুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে পেট্রোবাংলার কোম্পানি সেক্রেটারি সৈয়দ আশফাকুজ্জামান এবং ইন্দোনেশিয়ার পক্ষে পারটামিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট উইকি মিগানটরো চুক্তিতে সই করেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে দুই দিনের সফরে শনিবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশে এসেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট। রবিবার দুপুরে তিনি কক্সবাজারে গেছেন। দুই দিনের সরকারি সফর শেষে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।