অর্থনীতির মোড়কে রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ঢাকা-জাকার্তা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন সফররত ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো (ছবি- ফোকাস বাংলা)অর্থনীতির মোড়কে রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া। এর জন্য একদিকে জ্বালানি, বাণিজ্য, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক উপাদান নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে এই দুই দেশ; অন্যদিকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার মতো বিষয়গুলো নিয়েও দেশ দু’টি যৌথভাবে কাজ করবে।
আজ রবিবার (২৮ জানুয়ারি) ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর ঢাকা সফর উপলক্ষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
জোকো উইদোদো শনিবার (২৭ জনুয়ারি) তিন দিনের সফরে ঢাকা এসেছেন। আজ রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে এই বিবৃতি ঘোষণা করা হয়। ১৯-দফা যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উভয় দেশের জন্য লাভজনক— এমন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য দুই দেশ একমত হয়েছে।
জ্বালানি খাতে সমৃদ্ধ ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ বড় পরিসরে কাজ করতে আগ্রহী। এরই মধ্যে জাকার্তা থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করার জন্য চুক্তিও করেছে ঢাকা। আবার দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীদেরও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য আলোচনা শুরু করতে বলা হয়েছে।
অর্থনৈতিক খাতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে দুই দেশের বেসরকারি খাতে লাভজনক বিনিয়োগ ক্ষেত্র খুঁজে বের করার বিষয়েও ঐক্যমত্য হয়েছে। এছাড়া, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সুমদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার পর বাংলাদেশ সুমদ্র অর্থনীতি জোরদার করতে চায়। এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া।
এখানে উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় একশ ৩ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ একশ ২৫ কোটি ডলার সমমূল্যের পণ্য আমদানি করে থাকে ইন্দোনেশিয়া থেকে।
এদিকে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে একমত হয়েছে মুসলিম প্রধান এই দুই দেশ। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখার জন্য কক্সবাজার সফর করেছেন। রাখাইনের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের জন্য সমর্থন দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা দেওয়ার ইন্দোনেশিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সংঘটিত গণহত্যা বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এটা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে বিশ্ব জনমত গড়তে সহায়তা করবে।