নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কমিশন গত বৃহস্পতিবার আপিল করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। যেসব কারণে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন স্থগিত হয়েছে তার বেশিরভাগ বিষয় স্থানীয় সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ভোটার হালনাগাদ সংক্রান্ত কিছু দায়িত্ব কমিশনের ওপর বর্তেছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাৎ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কপি পাওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে আমরা মিটিং করেছি। আইনজীবীদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সচিবালয়কে বলা হয়েছে।’ হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ আপিলে স্থগিত হলে আইন অনুযায়ী নির্বাচনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, আদালতের রায়ের কপি পর্যালোচনা করেছি। এতে দেখা গেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ না থাকা, নতুন যুক্ত হওয়া কাউন্সিলরদের মেয়াদ নির্ধারণ না করা, ঢাকা উত্তর সিটির করপোরেশনে ৭৫ শতাংশ জনপ্রতিনিধি না থাকা এবং যেসব ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে দুই সিটিতে যুক্ত করা হয়েছে, সেসব ইউপির চেয়ারম্যানদের অব্যাহতি না দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়টি ইসির কাজ। বাকি সবই স্থানীয় সরকার বিভাগের কাজ। যখন স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কোনও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ইসিকে অনুরোধ জানানো হয়, তখন ধরেই নেওয়া হয় সেখানে কোনও জটিলতা নেই। এ কারণেই ইসিকে নির্বাচন করতে বলা হয়েছে। ইসির মূল কাজ হচ্ছে রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন করা। আর স্থানীয় সরকারভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানোর পর আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচন ও এ সিটিতে যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচন ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। দুটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত ১৭ জানুয়ারি বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। এছাড়া, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডের নির্বাচন চার মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট।