রোহিঙ্গা তথ্য বিনিময়ে সরকারের সঙ্গে ইউএনএইচসিআরের সমঝোতা স্মারক সই

উখিয়ার বালুখালী এলাকায় রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী বসতি। ছবি: বাংলা ট্রিবিউনরোহিঙ্গাবিষয়ক তথ্য আদান প্রদানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর মাধ্যমে সরকারের কাছে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সংগৃহীত রোহিঙ্গা তথ্য ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার কাছে সংগৃহীত পরিবারভিত্তিক তথ্যের সমন্বয় করে একটি সমন্বিত ডাটাবেস তৈরি করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থাকে যুক্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একমত হয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে একটি বড় ধরনের সমঝোতা স্মারক করতে চেয়েছিলাম, যেখানে ডাটা এক্সচেঞ্জ বা তথ্য আদান প্রদানের বিষয়টিও থাকার কথা ছিল। কিন্তু তথ্য আদান প্রদানের বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ায় এই সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকটি আগে করা হয়েছে।

প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বড় আকারের সমঝোতা স্মারক কবে নাগাদ স্বাক্ষরিত হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি খসড়া পর্যায়ে আছে। আশা করছি ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এটি স্বাক্ষরিত হবে।

গত সেপ্টেম্বর থেকে সরকার রোহিঙ্গাদের এককভাবে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা শুরু করে এবং এখন পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার তথ্য সংগ্রহ করেছে। অন্যদিকে, জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার কাছে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক লাখ ৭৫ হাজার ৫৫৮টি পরিবারের সাত লাখ ৬১ হাজার ৩২৮ জন রোহিঙ্গার তথ্য আছে। এরমধ্যে গত বছরের ২৫ আগস্টের পর এসেছে এমন এক লাখ ৪৮ হাজার ৩৫৮ পরিবারের ছয় লাখ ৪০ হাজার ২৬৯ রোহিঙ্গার তালিকা তাদের কাছে আছে।

সরকারের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে রাখাইনে ফিরে যেতে উৎসাহী হয়, সেজন্য জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে নিয়ে প্রচার চালাবে সরকার।

তিনি বলেন, এখন ফেরত যেতে চায় কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে বেশিরভাগ রোহিঙ্গাই হয়তো না বলবে। কিন্তু রাখাইনে পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং প্রথম যে ব্যাচটি যাবে তার সফল প্রত্যাবাসন হলে প্রায় সবাই উৎসাহিত হবে।

বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য তিনটি চুক্তি সই করেছে। প্রতিটি চুক্তিতে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের অধিকারের ওপর জোর দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই এর টেকসই সমাধান অর্থাৎ প্রত্যাবাসনের পর তার যেন আর ফেরত না আসে এবং এজন্য প্রয়োজন তাদের নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা এবং জীবনধারনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা।

রোহিঙ্গা ফেরত পাঠাতে কত সময় লাগতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিবারভিত্তিক ডাটাবেস তৈরি হওয়ার পর সেটি মিয়ানমারকে সরবরাহ করা হবে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সম্ভব হলে দুই মাসের মধ্যে তাদের যাচাই বাছাই শেষ করে বাংলাদেশকে জানালে তার একমাস পরে তাদের প্রত্যাবাসন করা হবে। অর্থাৎ আজকে যদি মিয়ানমারকে কোনও তালিকা দেওয়া হয়, তবে সাধারণভাবে বলা যায় তিন মাস পর তাদের প্রত্যাবাসন হবে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নির্যাতন শুরু হলে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে থেকে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিল।