মেলায় সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বই প্রকাশ করা যাবে না: ডিএমপি কমিশনার

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডিএমপি কমিশনারএকুশে বইমেলায় সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন কোনও বই প্রকাশ করা যাবে না বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এ ধরনের কোনও বই প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট লেখক-প্রকাশকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে বইমেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে এসে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘লেখক প্রকাশকদের অনুরোধ জানিয়েছি সাম্প্রদায়িক উসকানি দিতে পারে বা ধর্মীয় আবেগে আঘাত দিতে পারে এমন বই বাজারজাত করবেন না। আমাদের গোয়েন্দারা রয়েছে, বাংলা একাডেমির কর্তৃপক্ষ রয়েছে। বাংলা একাডেমির অধীনে একটি ডেডিকেটেড কমিটি করা রয়েছে এগুলো খবরাখবর রাখতে। যখনই আমাদের কাছে এ ধরনের কোনও খবর আসবে কমিটি এগুলো যাচাই বাছাই করে দেখবে। যদি তেমন কিছু থাকে তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এমন কিছু পেলে কোন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি আইন রয়েছে, দণ্ডবিধি রয়েছে, বিশেষ ক্ষমতা আইন রয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী যেখানে যে আইন প্রযোজ্য সে আইনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, লেখক প্রকাশক কারও যদি বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা বাড়তি নিরাপত্তা দেবো। 

বইমেলায় সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘লেখক প্রকাশক দর্শক পাঠক সবাই যাতে নির্বিঘ্নে আসতে পারে সেজন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে সার্বিক ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুটো চত্বর ঘিরে সুদঢ় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছি। পুরো এলাকা সিসিটিভি কাভারেজের মধ্যে থাকবে। প্রবেশ ও বাইরের জন্য আলাদা আলাদা পথ থাকবে। বাংলা একাডেমিতে দুটো প্রবেশ ও একটা বের হওয়ার গেট থাকবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিনটা প্রবেশ পথ ও ‍দুইটা বের হওয়ার গেট থাকবে।

মেলায় ঢুকতে হলে আর্চওয়ে গেট দিয়ে ঢুকতে হবে। মেটাল ও ফিজিক্যাল তল্লাশির মাধ্যমে সবাইকে ঢুকতে হবে। ভ্যানিটি ব্যাগ , ব্যাগপ্যাক, দাহ্য বস্তু, ধারালো পদার্থ নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে আসা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সাজানো হবে। ফায়ার টেন্ডার থাকবে, সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত থাকবে সর্বদা। পুরো মেলা চত্বর আমাদের ডগ স্কোয়াড দিয়ে ও এসবি সুইপিং টিম দিয়ে সুইপিং করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি পুরো রাস্তাটি গাড়িমুক্ত থাকবে। সবাই হেঁটে উৎসব মুখর পরিবেশে মেলায় আসবেন। সব হকার উচ্ছেদ করা হবে। যেসব অফিস এ এলাকায় রয়েছে তাদের স্টিকারযুক্ত গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে। দোয়েল চত্বর দিয়ে আসা গাড়ি জিমনেসিয়ামে পার্ক করার ব্যবস্থা থাকবে। আর যারা টিএসসি হয়ে আসবে তারা মল চত্বর ও রাস্তায় দু’পাশে গাড়ি পার্ক করতে পারবে।