চাল আমদানি নিয়ে সংসদে দুই মন্ত্রীর দুই ধরনের তথ্য

 

তোফায়েল আহমেদ ও কামরুল ইসলাম২০১৭-১৮ অর্থবছরের চাল আমদানি নিয়ে সংসদে দুই মন্ত্রী দুই ধরনের তথ্য দিয়েছেন সংসদে। মঙ্গলবার বৈঠকের প্রশ্নোত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থবছরের প্রথমার্ধে চাল আমদানি হয়েছে ২২ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি। এদিকে, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই অর্থ বছরে চাল আমদানি হয়েছে ৮ লাখ মেট্রিক টন। ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

মৌখিক উত্তরের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে সরকারি দলের হাবিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ২২ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিন টন চাল আমদানি করা হয়েছে।’

এদিকে সরকারি দলের আরেক এক সংসদ সদস্য শেখ মো. নুরল হকের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এই অর্থ বছরে ১৫ লাখ মেট্রিন টন চাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে ৮ লাখ মেট্রিক টন দেশের বন্দরে এসে পৌঁছেছে।’ দেশে বর্তমানে খাদ্য ঘাটতি নেই বলেও খাদ্যমন্ত্রী এ সময় দাবি করেন।

ওই সংসদের প্রশ্নের জবাবে চালের দাম বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্য করে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা ও ধানে ব্লাস্ট রোগ ইত্যাদি কারণে বোরো ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে খোলা বাজারে চালের মূল্যে ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিপুল পরিমাণে চাল দেশে আসায় চালের দাম করে স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে শুরু করে।  সরকারের উদ্যোগে মজুদ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি চালের মূল্য কমে দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জনসাধারণের ভোগ্য চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে আছে।’

এক সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যায় ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে খাদ্য সংগ্রহ করতে না পারায় আমরা সংকটে পড়ি। ওই সময় অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি ও পত্রপত্রিকায় লেখালেখির কারণে চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। আমরা ক্রাইসিসে পড়েছিলাম। আমরা সংকট কাটিয়ে উঠেছি।’ তিনি বলেন, ‘চাল সংগ্রহ শুরু করার আগে সাধারণত গুদামে কম মজুদ থাকে। গত এপ্রিলে আমরা যখন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করবো, তার আগে আমাদের গুদামে চাল মজুদ ছিল ৬ লাখ টনের বেশি।কিন্তু বোরো সংগ্রহ আমরা করতেই পারিনি। ধান-চাল মিলিয়ে বোরো সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ লাখ টনের ওপরে। তবে, আমরা একেবারেই তা সংগ্রহ করতে পারিনি। ফলে আমাদের গুদাম তলানিতে নেমে আসে। এজন্য আমরা এই ক্রাইসিসে পড়েছি। সেজন্য আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়েছে।’

খাদ্যমন্ত্রী জানান, ‘এই মুহূর্তে দেশে খাদ্যশস্য ১১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৬১ মেট্রিন টন মজুদ আছে। এর মধ্যে চাল রয়েছে ৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৯১ মেট্রিক টন।’ এক মাসের মধ্যে এই মজুদ ১০ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে হাবিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান,  ‘২০১৬-১৭ অর্থ বছরে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। কিন্তু গত বছর জুলাই-আগস্ট মাসে বন্যার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কারণে খাদ্য স্বল্পতা দেখা দেয়। ফলে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি করে চাহিদা মেটানো হচ্ছে।’

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পেঁয়াজের উৎপাদন, আমদানি ও বিপণন ব্যবস্থায় কোনও সিন্ডিকেট কাজ করেনি। বন্যায় ভারতের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও বাংলাদেশে বন্যায় স্থানীয়ভাবে মজুদকৃত পেঁয়াজের একটি অংশ নষ্ট হওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বেড়েছে।’

সরকার দলের মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ জানান, ‘বাংলাদেশ থেকে আলু, টমেটো, বেগুন, সিম, বরবটি, ঢেঁড়স, গাঁজর, মাশরুম ইত্যাদি সবজি বিদেশে রফতানি হয়। সবজি রফতানি করে বাংলাদেশ ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৮১ দশমিক শূন্য ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে।’