মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছে যুক্তরাষ্ট্র

সেমিনারে মার্শা ব্লুম বার্নিকাট ও অন্য বক্তারা (ছবি: বাংলা ট্রিবিউন)রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নারকীয় নির্যাতনের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে আয়োজিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এ তথ্য জানান। সেখানে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল’ বিষয়ক সেমিনারে অংশ নেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘মিয়ানমারে নির্মম ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে জড়িতদের বিচার প্রক্রিয়ার সময়ে উপস্থাপনের জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করছি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন জাতিগত নিধনের প্রমাণের কথা বলেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় রোহিঙ্গা বিষয়ক বিভিন্ন রেজ্যুলেশনে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।’

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নকারী পরামর্শক প্যানেল থেকে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক বিল রিচার্ডসনের পদত্যাগ হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন বার্নিকাট। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধ এখনও বলবৎ আছে। আমরা এখন সেখানকার সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের ওপর নির্দিষ্ট অবরোধ দিচ্ছি, ভবিষ্যতেও দেবো।’

সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ড্যান রোজেনব্লুম বলেন, ‘মিয়ানমারে সংঘটিত রোহিঙ্গা নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ করার পাশাপাশি তাদের জন্য অর্থ সহায়তাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।’

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সম্মত হওয়ায় সাধুবাদ জানিয়েছেন রোজেনব্লুম। একইসঙ্গে তিনি মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান— ‘রাখাইনে প্রত্যাবাসনের জন্য সঠিক পরিবেশ তৈরি করুন। আমরা আশা করি, যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা মিয়ানমারের সরকার ও সেনাবাহিনী পূর্ণ করবে।’

গত বছরের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু হলে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকেই প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিল। সব মিলিয়ে শরণার্থীর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১০ লাখের ঘর।