বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমে গেছে: ওবায়দুল কাদের

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমে গেছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে গত ৬ বছরের সড়ক দুর্ঘটনার হার উল্লেখ করে মন্ত্রী এ দাবি করেন। ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদে ওবায়দুল কাদেরনরসিংদী-২ আসনের কামরুল আশরাফ খানের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী জানান, পুলিশ বিভাগের সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য অনুসারে প্রতি ১০ হাজার যানবাহনে মৃত্যুর হার ২০১১ সালে ১৫.১২, ২০১২ সালে ১৩.৭৬, ২০১৩ সালে ৯.৮৮, ২০১৪ সালে ৯.৬৫, ২০১৫ সালে ৯.৬৫ ও ২০১৬ সালে ৮.৫৫ শতাংশ।

সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার মতো দেশ হওয়ার প্রত্যাশার বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রহিম উল্লাহর প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে কথায় কথায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো হওয়ার কথা বলেন। আমরা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকংকে পেছনে ফেলে আরও ওপরে উঠতে চাই। এ ধরনের দাবি করা হীনমন্যতার পরিচয়। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পদ্মা সেতু করছি। বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া হবে কেন? আমরা বাংলাদেশ হবো, হবো সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।’

চট্টগ্রাম-৪ আসনের দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, ১ জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ৩ এপ্রিল ২০১৬ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে মোট নিষ্পন্ন মামলার সংখ্য তিন লাখ ৩৫ হাজার ২৬৪টি। এর মধ্যে আপিল বিভাগে ৯ হাজার ৩৭টি ফৌজদারিসহ মোট ৩৮ হাজার ৭৫২টি এবং আপিল বিভাগে এক লাখ ৮৯ হাজার ৩৬৪টি ফৌজদারিসহ দুই লাখ ৯৬ হাজার ৫১২টি।

নীলফামারী-১ আসনের আফতাব উদ্দিন সরকারের প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জানান, রেলওয়েতে মোট ৩৫০টি ট্রেন বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী ৩৫০টি ট্রেনের মধ্যে আন্তঃনগর ৮৮টি, মেইল ও কমিউটার ১৩২টি, লোকাল ১২৬টি ও মৈত্রী ৪টি।

দিদারুল আলমের অপর প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী জানান, রেলওয়েতে লাইনচ্যুতিসহ মেইন ও শাখা লাইনে ২০০৯-১০ সালে ৩০৮টি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত, ২০১০-১১ সালে ২২৪টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ১১৪ জন আহত, ২০১১-১২ সালে ১৮২টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৪১ জন আহত, ২০১২-১৩ সালে ১৭৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৫৫ জন আহত, ২০১৩-১৪ সালে ২০৩টি দুর্ঘটনায় ৪৩ জন নিহত ও ১৪০ জন আহত হন।

এছাড়া ২০১৪-১৫ সালে ১০৯টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৯০ জন আহত, ২০১৫-১৬ সালে ১১৭টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ৩৪ জন আহত, ২০১৬-১৭ সালে ৭২টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ৭৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে রেল দুর্ঘটনায় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি ৫৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮৬৪ টাকা বলেও জানান মন্ত্রী।

নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য সাধন চন্দ্র মজুমদারের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক জানান, বর্তমানে দেশে সরকারি পাটকল ২৬টি ও বেসরকারি ১৮৪টি।

ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলের গত ৭ অর্থ বছরের আয়-ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রীর তথ্য মতে পাটকলগুলোয় ২০০৯-১০ অর্থ বছরে ২৭৫ কোটি ২৩ লাখ, ২০১১-১২ অর্থ বছরে ৭৮ কোটি ৩৫ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ৩৯৬ কোটি ৯৭ লাখ, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ৫১৩ কোটি ৮ লাখ, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৭২৯ কোটি ১ লাখ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬৫৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।