বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমে গেছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে গত ৬ বছরের সড়ক দুর্ঘটনার হার উল্লেখ করে মন্ত্রী এ দাবি করেন। ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়ার মতো দেশ হওয়ার প্রত্যাশার বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রহিম উল্লাহর প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে কথায় কথায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো হওয়ার কথা বলেন। আমরা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকংকে পেছনে ফেলে আরও ওপরে উঠতে চাই। এ ধরনের দাবি করা হীনমন্যতার পরিচয়। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পদ্মা সেতু করছি। বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া হবে কেন? আমরা বাংলাদেশ হবো, হবো সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।’
চট্টগ্রাম-৪ আসনের দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, ১ জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ৩ এপ্রিল ২০১৬ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে মোট নিষ্পন্ন মামলার সংখ্য তিন লাখ ৩৫ হাজার ২৬৪টি। এর মধ্যে আপিল বিভাগে ৯ হাজার ৩৭টি ফৌজদারিসহ মোট ৩৮ হাজার ৭৫২টি এবং আপিল বিভাগে এক লাখ ৮৯ হাজার ৩৬৪টি ফৌজদারিসহ দুই লাখ ৯৬ হাজার ৫১২টি।
নীলফামারী-১ আসনের আফতাব উদ্দিন সরকারের প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জানান, রেলওয়েতে মোট ৩৫০টি ট্রেন বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী ৩৫০টি ট্রেনের মধ্যে আন্তঃনগর ৮৮টি, মেইল ও কমিউটার ১৩২টি, লোকাল ১২৬টি ও মৈত্রী ৪টি।
দিদারুল আলমের অপর প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী জানান, রেলওয়েতে লাইনচ্যুতিসহ মেইন ও শাখা লাইনে ২০০৯-১০ সালে ৩০৮টি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত, ২০১০-১১ সালে ২২৪টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ১১৪ জন আহত, ২০১১-১২ সালে ১৮২টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৪১ জন আহত, ২০১২-১৩ সালে ১৭৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৫৫ জন আহত, ২০১৩-১৪ সালে ২০৩টি দুর্ঘটনায় ৪৩ জন নিহত ও ১৪০ জন আহত হন।
এছাড়া ২০১৪-১৫ সালে ১০৯টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৯০ জন আহত, ২০১৫-১৬ সালে ১১৭টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ৩৪ জন আহত, ২০১৬-১৭ সালে ৭২টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ৭৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে রেল দুর্ঘটনায় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি ৫৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮৬৪ টাকা বলেও জানান মন্ত্রী।
নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য সাধন চন্দ্র মজুমদারের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক জানান, বর্তমানে দেশে সরকারি পাটকল ২৬টি ও বেসরকারি ১৮৪টি।
ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলের গত ৭ অর্থ বছরের আয়-ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রীর তথ্য মতে পাটকলগুলোয় ২০০৯-১০ অর্থ বছরে ২৭৫ কোটি ২৩ লাখ, ২০১১-১২ অর্থ বছরে ৭৮ কোটি ৩৫ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ৩৯৬ কোটি ৯৭ লাখ, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ৫১৩ কোটি ৮ লাখ, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৭২৯ কোটি ১ লাখ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬৫৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।