রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইন সীমান্তে গোলাগুলি ও অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, যখন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে, তখনই মিয়ানমার এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘১৫ জানুয়ারি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠকের আগে রাখাইনে আরসা’র (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) একটি গ্রুপ সামরিক বহরে হামলা করেছে, এমন একটি সাজানো নাটক করা হলো।’
এই কর্মকর্তা বলেন, ‘‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার ‘ফিজিক্যাল এরেঞ্জমেন্ট’ চূড়ান্ত হওয়ার পরে মিয়ানমার মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে যে, বাংলাদেশের কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দেরি হচ্ছে। অথচ রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির বিষয়টি তারা শুরুই করেনি।’’
এ অবস্থায় বাংলাদেশের করণীয় কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছি এবং এ বিষয়টি তারা জানে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এপর্যন্ত মিয়ানমার যা করেছে, তা আন্তর্জাতিক চাপের কারণে করেছে এবং আমরা এটি অব্যাহত রাখবো।’
আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এরইমধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে এবং আরেকটি চুক্তি এই সপ্তাহের মধ্যে হবে বলে আশা করছি।’
তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত চুক্তিটি হয়ে গেলে এই প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে।’
এদিকে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এছাড়া, তমব্রু সীমান্তের জিরো লাইন বরাবর দু’দিন ধরে থেমে থেমে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করছে সেদেশের সেনাবাহিনী ও বিজিপি সদস্যরা।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে সহিংসতার পর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে থেকে আরও তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিল।