১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে কিনা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে থাকলে এই দুই পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করা হবে কিনা— সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া, আগামী পাবলিক পরীক্ষায় বহুনির্বচনি অভীক্ষা (এমসিকিউ) পুরোপুরি উঠিয়ে দেওয়া হবে কিনা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীকে ধরিয়ে দিতে পারলে তাকে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে কিনা— এসব বিষয়েও সিদ্ধান্ত হবে এই বৈঠকে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নেতৃত্বে রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিকাল ৩টায় শুরু হয় এই বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত আছেন মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী; মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন; কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর; মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমেদ; অতিরিক্ত সচিব জাভেদ আহমেদ ও যুগ্ম সচিব (মাধ্যমিক) সালমা জাহান। এছাড়া, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি) এবং আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত আছেন।
বৈঠকের শুরুতেই আলোচনার জন্য প্রস্তাবনা তুলে ধরেন শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন। তার প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে থাকলে অনুষ্ঠিত দুই পরীক্ষা বাতিল করা হবে কিনা, আগামী পাবলিক পরীক্ষায় এমসিকিউ পুরোপুরি উঠিয়ে দেওয়া হবে কিনা ও প্রশ্ন ফাঁসকারীকে ধরিয়ে দিতে পারলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে কিনা।
শিক্ষা সচিব প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, ‘আমরা বলেছি, প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে পরীক্ষা বাতিল করবো। সামগ্রিক দিক পর্যালোচনা করে যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা সেটাই বাস্তবায়ন করব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা খেয়াল করেছি, টাকা না দিলেও প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। এটা কী উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে, সেটা ভাবা দরকার।’
শিক্ষা সচিব বলেন, নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগেই কোথাও কোথাও প্রশ্নের খাম খোলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। আবার শিক্ষা বোর্ডের কাছে টাকা আছে। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের ধরিয়ে দিলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া যায় কিনা, সে বিষয়েও করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।
শিক্ষা সচিব বলেন, আরও একটি পাবলিক পরীক্ষা (এইচএসসি) আসছে। এ বিষয়েও তিনি সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরামর্শ চান। তিনি বলেন, সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করে আপনারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেগুলোই বাস্তবায়ন করা হবে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে কারও কাছে স্মার্টফোন পাওয়া গেলে তাকে গ্রেফতারের নির্দেশনা আগে থেকেই ছিল। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আপনারা কারও কাছে স্মার্টফোন পেলেই গ্রেফতার করুন।
শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এর আগেও অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি, নতুন করে আরও পদক্ষেপ নেবো। বৈঠক শেষে সব সিদ্ধান্ত আপনাদের জানানো হবে।