খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেস ব্রিফিং করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীজিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পায়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী প্রধানমন্ত্রীর ইতালি সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া পাইনি।’ বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল সুইস প্রেসিডেন্টকে বিদায় জানালাম। তিনি এখানে চার দিন সফর করেছেন। তিনি তো কিছু বলেননি। বরং তাকে যখন বিএনপি-জামায়াতবিরোধী ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট রেজ্যুলেশনের কথা বলেছি, তখন তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং একাত্মতা জানিয়েছেন।’
গতকাল (বুধবার) লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিএনপি সমর্থকদের হামলার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের এ ধরনের সহিংস ও উশৃঙ্খল আচরণে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করা যায়। এমনকি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনেও বিক্ষোভ করা যায়। আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে ছিল, তখনও তারা বিক্ষোভ করেছে। সমস্যাটি হয় তখন, যখন এটি হিংসাত্মক রূপ নেয়। গণতান্ত্রিক সমাজে বাস করে হিংসাত্মক কাজ গ্রহণযোগ্য নয়।’
আগামীকাল যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ঢাকায় আসছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি অনেকদিন পর আসছেন। আমরা তাকে স্বাগত জানাই। রোহিঙ্গা বিষয়ে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশ আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে।’
ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগামী ১২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালি এবং একইসঙ্গে পোপ ফ্রান্সিসের আমন্ত্রণে ভ্যাটিক্যান সফর করবেন। ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্টের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ১৩ ফেব্রুয়ারি গভর্নিং কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।
ইতালি সফরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী থাকবেন।