দূতাবাস পরিচালনায় নীতিমালা হবে

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বাংলাদেশি দূতাবাসগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে তার একটি নীতিমালা করা হবে। একইসঙ্গে বিদেশে কীভাবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রটোকল দেওয়া হবে তারও একটি গাইডলাইন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে দূতাবাসের কার্যক্রম নিয়ে এক সভায় এসব কথা জানানো হয়। ওই সভায় পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় হয়।

সভায় পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা মৌখিকভাবে বিভিন্ন অভিযোগ করেন।

ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা আর্থিক বিষয়ে স্বাধীনতা, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত কে হবেন, পৃথক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, দূতাবাস কার্যক্রম পরিচালনায় অধিকাংশ রাষ্ট্রদূতদের স্ত্রীদের নাক গলানো, ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রদূত ছিলেন এমন একজন পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগসহ আরও অনেক বিষয় উঠে আসে।’

বিভিন্ন মিশনে কর্মরত প্রশাসন ক্যাডার, অর্থনৈতিক ক্যাডার ও তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বৈঠক শুরু হয় সকাল ১০টায়। কিন্তু পররাষ্ট্র সচিবকে দুপুর ১২টায় সেখানে উপস্থিত হয়ে তার মতামত জানানোর জন্য চিঠি দিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

আলোচনার প্রথমে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক জানতে চান সভা ১০টায় শুরু হলেও তাকে কেন ১২টার সময় আসার জন্য বলা হলো। এরপর তিনি পররাষ্ট্র ক্যাডারের বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, পররাষ্ট্র সচিব প্রথমে ব্যাখ্যা করে বলেন বিদেশে দূতাবাসগুলো আন্তর্জাতিক ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী চলে। সেখানে চাইলেও অনেক কিছু করা যায় না।

আর্থিক স্বাধীনতার বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, রাষ্ট্রের আর্থিক বিধিবিধান অনুযায়ী একটি দূতাবাসে শুধুমাত্র একটি অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। এখানে দ্বিতীয় অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ নেই। 

দূতাবাস কার্যক্রম পরিচালনায় রাষ্ট্রদূতদের স্ত্রীদের নাক গলানো প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব তাদের নাম জানতে চাইলে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা কোনও নাম বলেননি।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত কে হবেন এ বিষয়ে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়, এটির জন্য সুস্পষ্ট বিধান আছে এবং সেই অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ঠিক হবে।