মঙ্গলবার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের করা আপিলের শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মঈনুল হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আবদুর রহিম। অন্যপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদার। এছাড়াও এমএকিউ পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল উল আলম।
পরে আব্দুল বাসেত মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০০৬ সালের মামলা এখনও নিষ্পত্তি না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন যুগ্ম জেলা জজ শফিকুল ইসলামকে সতর্ক করেছেন আপিল বিভাগ। ক্ষমা চাওয়ায় সশরীরে তাকে আদালতে হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। আর তিতাস গ্যাস সংক্রান্ত মামলাটি আগামীকাল রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।’
গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৬ সালের দায়ের করা মামলা এখনও নিষ্পত্তি না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের তৎকালীন যুগ্ম জেলা জজকে তলব করেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে তাকে আজ মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সংশ্লিষ্ট মামলার নথি নিয়ে তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হতে বলা হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের করা আপিল শুনানিকালে আদালত এ আদেশ দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ওই যুগ্ম জেলা জজ আজ আদালতে হাজির হন। এরপর আদালত তার বিষয়ে আদেশ দেন।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের দাবি করা ১২ মাসের বিল অবৈধ ঘোষণা চেয়ে ম্যাকস পেপার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান নিম্ন আদালতে মামলা করে। পাশাপাশি তিন লাখ টাকা করে কিস্তিতে বিল পরিশোধের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানায়। কিন্তু নিম্ন আদালত ২০০৭ সালের ১৫ মার্চ ওই আবেদন খারিজ করে দেন।
এরপর ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। সেই আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৮ সালের ৪ জুলাই হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে প্রতিমাসে ১৭ লাখ টাকা করে বকেয়া ও সাড়ে সাত লাখ টাকা করে নিয়মিত মাসিক বিল পরিশোধ করতে বলা হয়। পাশাপাশি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নিম্ন আদালতে ওই মামলা নিষ্পত্তি করতে বলা হয়। কোনও ধরনের বিলম্ব ছাড়া ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর নিম্ন আদালতে ওই মামলা নিষ্পত্তি করতে বলা হয়।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ লিভ টু আপিল করে। যা ২০০৯ সালের ২৩ জুলাই মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। পরে নিয়মিত আপিল করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এরপর আবেদনটির ওপর আদালতে শুনানি শুরু হয়।