প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাধারণত কতদিন আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়? ২০ মিনিট আগে? যদি কোনও পরীক্ষার্থী পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট বা একঘণ্টা আগে, অথবা দুই ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র পায়, তাহলে এমন ফটোজেনিক ও মেধাবী পরীক্ষার্থী কে আছে, যে চট করে প্রশ্ন দেখেই উত্তর মুখস্থ করে ফেলতে পারে? এত ট্যালেন্টেড কে আছে? তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজছি কিন্তু পাচ্ছি না। তবে হ্যাঁ, একটা বিষয় আছে, টিক মেরে উত্তর লেখা। সেটাও তো বই থেকে খুঁজতে হবে। এত অল্প সময়ে বই থেকে সেই উত্তর দেখে মুখস্থ করে নেবে? এটা কেউ পারবে? এ সময় একজন পরীক্ষার্থী তো কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি নেয়, সে রাস্তায় থাকে। তাছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোর জন্য আধঘণ্টা আগে কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীকে যেতে বলা হলো।’
আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) গভর্নিং কাউন্সিলের ৪১তম বার্ষিক বৈঠকে যোগ দিয়ে ইতালি ও ভ্যাটিক্যান সিটি থেকে দেশে ফেরার পর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে গণভবনে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখন একটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র যায় তখন সঠিক সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করতে প্রশ্নপত্র অন্তত একঘণ্টা আগেই খুলে রেডি রাখতে হয়। এটা তো সবাই জানেন। তখন যদি কেউ সেটার ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়, তাহলে তখন কী করবেন?’
তিনি বলেন, ‘একসময় কথা হলো প্রশ্নফাঁসের কারণে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিতে হবে। ইন্টারনেট বন্ধ হলেই যে সব সমাধান হবে, তা তো না। তাহলে, মোবাইল ফোনসহ ডিজিটাল পদ্ধতি বন্ধ করে দিতে হবে। দেশে এখন সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ হয় প্রযুক্তির মাধ্যমে, তাহলে সেটা বন্ধ করে দিলে দেশের কী অবস্থা হবে?’
প্রশ্নফাঁসকারীদের ধরে শাস্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে তো আপনারদের এজেন্ট আছে, আপনারাই একটু খুঁজে বের করে দিন, কারা এই কাজ করছে। তাদের ধরে আমরা শাস্তি দিয়ে দেবো। তাছাড়া, আমরা টিক মারার পদ্ধতি বাতিল করে দেবো। কারণ, ওটাতে সুবিধা বেশি। আমরাও তো একসময় খাতা ভরে লিখেছি। তাহলে, এখন টিক কেন থাকবে। আমরা তো চাই, সবাই সুশিক্ষিত হোক। বিনামূল্যে বই দিচ্ছি এজন্য। আমরা তো চাই না প্রশ্নফাঁস হোক ।’
তিনি আরও বলেন, আর এই প্রশ্নফাঁসের জন্য কি শিক্ষামন্ত্রী অথবা সচিব দায়ী? তারা কি কেন্দ্রে গিয়ে প্রশ্নফাঁস করেন? তাহলে তাদের পদত্যাগের কথা আসবে কেন? তবে অবশ্যই কিছু একটা আছে, না হলে এভাবে ছড়াবে কীভাবে? তাই বলছি, আপনারা তাদের ধরে দিন, আমরা শাস্তি দিয়ে দেবো।’
তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, তবে এটা ঠিক প্রশ্নপত্র কেন এভাবে বাইরে আসবে। সেটা আসা তো ঠিক নয়। তাই আমরা এটা দেখবো। কারা এ কাজ করছে, তাদের ধরার চেষ্টা করবো। এর জন্য মন্ত্রীকে রিজাইন করতে হবে, সচিবকে রিজাইন করতে হবে—এই সুর তোলা তো ঠিক নয়।’
উল্লেখ্য, ১৩ ফেব্রুয়ারি ইতালির রোমে তিনি ইফাদের গভর্নিং কাউন্সিলের ৪১তম বার্ষিক বৈঠকে যোগ দেন। ইফাদ প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট এফ হুয়াংবোর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী এ সফরে যান। এছাড়া, পোপ ফ্রান্সিসের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী হলি সি হিসেবে পরিচিত ভ্যাটিকান সিটি সফর করেন। সেখানে তিনি পোপ এবং ভ্যাটিকান সিটির সেক্রেটারি স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো প্যারোলিনের সঙ্গে বৈঠক করেন।