প্রভাতফেরিতে শিশুরাও

 

বড়দের সঙ্গে শিশুরাও এসেছে শহীদ মিনারেএকুশের প্রথম প্রহরে অভিভাবকদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসেছে শিশুরাও। মা-বাবার কোলে চড়ে এসেছে অনেকে। এসেছে পায়ে হেঁটেও। তারা সবাই এসেছে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসেছে শিশুরাওঅভিভাবকরা বলছেন, ভাষার জন্য শহীদদের আত্মত্যাগের কথা জানাতে ও তাদের প্রতি যাতে শিশুদের মনে শ্রদ্ধাবোধ গড়ে ওঠে, সে জন্য মধ্যরাতে কষ্ট করে হলেও সন্তানদের শহীদ মিনারে নিয়ে এসেছেন তারা।

বড়দের সঙ্গে এসেছে শিশুরামা-বাবার সঙ্গে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে আসতে পেরে বেশ খুশি শিশুরা। মালিবাগ থেকে মা-বাবার সঙ্গে এসেছে চার বছরের অরিন্দ। প্রথমবারের মতো এসেছে সে শহীদ মিনারে। তার বাবা মিনহাজ বলেন, ‘আমি প্রতিবছরই প্রথম প্রহরে আসি। এবার ছেলেকে নিয়ে এসেছি। আসতে আসতে ভাষা শহীদদের গল্প বলেছি। এতে করে ভাষা শহীদ ও এই দিনটির কথা তার মনে থাকবে।’

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম প্রহরে এসেছে শিশুরাওপ্রায় একই কথা বলেন মগবাজারের বাসিন্দা সরোয়ার। তিনি তার তিন মেয়েকে নিয়ে শহীদ মিনারে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই আমার মেয়েরা দেশের ইতিহাস, ভাষার ইতিহাস জানুক। ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জেগে উঠুক তাদের মনে।’

কেমন লাগছে শহীদ মিনারে এসে? পাঁচ বছরের শিশু রিয়ান উদ্দিন হাসিমাখা মুখে বলে, ‘খুব ভালো লাগছে।’ সে এবারই একুশে ফেব্রুয়ারিতে প্রথম এসেছে বলেও জানায়।

শিশুরাও সামিল হযেছে প্রথম প্রহরেঅন্য এক শিশু ওয়েজ আহমেদকে জিজ্ঞাসা করলে সেও বলে, ‘আমার খুব ভালো লাগছে।’ সে তার মাকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘আম্মু, তুমি আমাকে প্রতিদিন এখানে (শহীদ মিনারে) নিয়ে আসবে।’

চিলড্রেন হোমস প্রি ক্যাডেট অ্যান্ড স্কুলের খুদে পডুয়া সোহানা অতুরি সিনিন ভাষা শহীদদের স্মরণ করে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটির সাথে সুর মিলিয়ে বলে, ‘আমি খুব মজা পেয়েছি।’

আরও পড়ুন-

২১ মানে মাথা নত না করা
একুশের প্রথম প্রহরে জাগ্রত সারাদেশ
ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা