বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘ট্যুরিস্ট স্পট’ করছে বিএসএফ

সীমান্তে বিটিং রিট্রিটপর্যটনের প্রসারে এবার সীমান্ত এলাকাকেও যুক্ত করতে যাচ্ছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বাহিনীটি ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তের কিছু নির্দিষ্ট স্থানে পর্যটক টানার জন্য ট্যুরিস্ট স্পট গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে চলেছে। এর মাধ্যমে দেশের ভ্রমণপিপাসুদের সামনে নতুন সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী চেতনার সঞ্চার ঘটবে বলেও মনে করছেন বাহিনীর কর্মকর্তারা।

এ সংক্রান্ত প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সীমা দর্শন’, অর্থাৎ সীমান্ত এলাকায় পর্যটকদের ঘুরে দেখার ব্যবস্থা। তবে সাধারণভাবে সরকারি কর্মকর্তারা একে ‘বর্ডার ট্যুরিজম’ বলেই অভিহিত করছেন। এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে ১০টি ট্যুরিস্ট স্পট গড়ে তুলবে ভারত।

তামাবিল-ডাউকি সীমান্তবাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্তের তিনটি জায়গাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো, বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত, সুন্দরবন এবং সিলেট-মেঘালয় সীমান্তের ডাউকি।

এছাড়া, ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর জম্মুতে অকট্রয় ও চামলিয়াল সীমান্ত চৌকি; পাঞ্জাবের আট্টারি, হুসাইনিওয়ালা ও সাদকি সীমান্ত চৌকি; রাজস্থানের টানোট ও গুজরাটের নারাবেট চৌকির মতো জায়গাগুলোকেও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে বিএসএফের টহলদিল্লিতে বিএসএফের মুখপাত্র শুভেন্দু ভরদ্বাজ এ প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সীমা দর্শনের ভাবনা শুরু হয়েছিল বছরদুয়েক আগেই। দেশের ভেতরে লাখ লাখ পর্যটক সারাবছর নানা প্রান্তে বেড়াতে যান; আমরা মনে করেছি তাদের একটা অংশকে বর্ডারের দিকেও টেনে আনা সম্ভব। এর মাধ্যমে পর্যটকদের মধ্যে জাতীয়তাবাদের চেতনাও সঞ্চারিত হবে বলে আমাদের ধারণা।’

বেনাপোল-পেট্রাপোল আউটপোস্টে কয়েক বছর ধরে প্রতিদিন বিকালে বিএসএফ ও বিজিবির সদস্যরা ‘বিটিং রিট্রিট’ (যৌথ কুচকাওয়াজ) করে আসছেন। এটি দেখার জন্য ভারত ও বাংলাদেশ দুদিকেই যথেষ্ট ভিড়ও হয়। এখন সেখানে যদি পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো যায়, তাহলে পেট্রাপোলের মতো বাণিজ্যিক এলাকাও একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে বিএসএফের বিশ্বাস।

পাকিস্তান সীমান্তের আটারি-ওয়াগা এবং হুসাইনিওয়ালার মতো যৌথ চেকপোস্টগুলোতেও অনেক বছর ধরে বিএসএফ ও পাকিস্তান রেঞ্জার্স একইভাবে বিটিং রিট্রিট করে আসছে। সেখানেও তা দেখতে ভিড় জমে।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবনের মধ্য দিয়েই গেছে বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্ত। এই অরণ্যের মোটামুটি দুই-তৃতীয়াংশ বাংলাদেশের মধ্যে পড়েছে, বাকিটা ভারতে। সুন্দরবন দু’দেশেই পর্যটকদের কাছে ভীষণ পছন্দের জায়গা। তবে সীমান্ত এলাকাটা পর্যটকরা সচরাচর এড়িয়েই চলেন। কিন্তু বিএসএফ যদি সীমান্ত এলাকায় যেতে পর্যটকদের উৎসাহিত করে, তাহলে সেই গভীর অরণ্যের খাঁড়ি-জঙ্গলেও অবধারিতভাবে বাঘ দেখার ভিড় বাড়বে।

তাছাড়া, ওই দুর্গম খাঁড়ি-জঙ্গলে সুন্দরী গাছের বনে বাঘ আর কুমির সামলে সীমান্তরক্ষীরা কীভাবে পাহারা দেন, সেটাও খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হবে পর্যটকদের।

প্রায় একই কথা খাটে মেঘালয়ের ডাউকি সীমান্ত চৌকি নিয়েও। মেঘালয়ের পাহাড়-ঝরনা-লেকের অপূর্ব প্রকৃতি দেখতে ওই অঞ্চলে এমনিতেই বহু পর্যটক আসেন। বিএসএফ এখন তাদের একেবারে সীমান্তে টেনে আনতে চাইছে।

সীমান্তের অন্যদিকে বিজিবিও একই রকম উদ্যোগ নেবে কিনা, তা নিয়ে অবশ্য বিএসএফ কর্মকর্তাদের কোনও ধারণা নেই। তবে তারা জানিয়েছেন, ভারত ঘুরতে যাওয়া বাংলাদেশি পর্যটকরা চাইলে ‘সীমা দর্শন’ সফরে শামিল হতে পারবেন।