বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৫৭৮টি বিওপি সীমানা বরাবর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বিজিবির যানবাহন, অস্ত্র বা বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট-এ (বিওপি) রক্ষিত সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ জনগণ, মাদক, অস্ত্র ইত্যাদির অবৈধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে বিওপি এলাকায় যে কোনও ধরনের অবাঞ্ছিত ঘটনা প্রতিরোধ করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ একটি প্রকল্প নিয়েছে।
এ প্রকল্পের আওতায় দেশের আট বিভাগের ৩২ জেলার ৪০টি উপজেলায় বিদ্যমান ৫৭৬টি ও দুটি ভাসমান বিওপিসহ মোট ৫৭৮টি বিওপি বরাবর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হবে।
‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর জন্য বিভিন্ন বিওপির পরিসীমা বরাবর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ (১ম পর্যায়) প্রকল্প’ নামের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিজিবি। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ অর্থের পুরোটাই দেবে সরকার। ২০১৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ তিন দিক দিয়ে স্থলভাগের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত। সীমান্ত এলাকায় পাচারকারীরা অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, মাদক দ্রব্য, জাল মুদ্রা, স্বর্ণ, রৌপ্য ও ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী অবৈধভাবে পাচার করে যা দেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
বিজিবি একটি আধা-সামরিক বাহিনী হিসেবে সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ বাহিনী বর্তমানে ৫৭টি ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে সারাদেশের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিওপির মাধ্যমে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া, অবৈধ অনুপ্রবেশে বাধা, চোরাকারবারিদের তৎপরতা রোধ, সীমান্তবর্তী সেনাদের সতর্ক রাখার লক্ষ্যে তাদের চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার মাধ্যমে এ বাহিনী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
বিজিবি সূত্র জানায়, মোট বিওপির সংখ্যা ৮৪৫টি। এর মধ্যে ২৬৭টি বিওপিতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি ৫৭৮টি বিওপির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সীমানা বরাবর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের জুন মাসে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়। প্রকল্পটির ওপর ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পিইসি সভার সুপারিশের আলোকে প্রকল্পটির ডিপিপি পুনর্গঠন করে এ বছরের ৮ জানুয়ারি জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে পাঠানো হয়। বিভিন্ন সময় বিওপিগুলোর পরিসীমার দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পের মোট ব্যয় পিইসির সুপারিশ করা ব্যয়ের তুলনায় ৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, ৫৭৮টি বিওপিতে দুই লাখ ৪৯ হাজার ৭১ রানিং মিটার কাঁটাতারের বেড়াসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণ কাজ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, অস্ত্র ও মাদকের চোরাচালান এবং অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ তারই অংশ। আশা করছি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত এলাকার জানমালের নিরাপত্তা অনেকংশেই নিশ্চিত হবে।