বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের বইমেলায় মোট বিক্রি হয়েছিল ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার বই। এর মধ্যে বাংলা একাডেমির বই বিক্রির পরিমাণ ছিল এক কোটি ৫৪ লাখ ৫৪ হাজার ৩০০ টাকা। এর বিপরীতে এ বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেড় কোটি টাকার বই বিক্রি করেছে একাডেমি। ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি যে পরিমাণ বই বিক্রি হবে, তাতে এ বছরে বাংলা একাডেমির বই বিক্রির পরিমাণ গত বছরের চেয়েও বেশি হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ।
মেলায় অনুপম প্রকাশনী, অন্যপ্রকাশ, সময় প্রকাশন, প্রথমা, কাকলী প্রকাশনী, অন্বেষা, সেবা প্রকাশনী, ভাষাচিত্রসহ কয়েকটি প্রকাশনা স্টলে কথা বলে জানা যায়, এবারের বই মেলায় দর্শনার্থী সমাগম ও বিক্রি, দুটিই বেশ ভালো। তবে কেউ কেউ বলেছেন, এখনও লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হয়নি। তাই মেলার শেষদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন অনেকেই।
অনুপম প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মিলন নাথ বলেন, ‘বিক্রি বেশ ভালো। মেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়তে থাকে। তবে এবারের বইমেলায় একটি বিষয় ছিল লক্ষণীয়, অনেকেই মেলায় ঘুরতে ও বই কিনতে এসেছেন পরিবার নিয়ে। আবার অনেকেই নিজে বই কিনে পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য বই কিনে নিয়ে গেছেন। নব্বইয়ের দশকে আমরা এরকম দেখতাম। মাঝখানে অনেক বছর এমন দেখিনি। বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে—এটা দেখে খুব ভালো লেগেছে।’
অন্যপ্রকাশের একজন বিক্রয়কর্মী বলেন, ‘এবারের মেলায় পাঠকের সাড়া পেয়েছি। পাঠক সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে।’ কী ধরনের বইয়ের বিক্রি বেশি ছিল, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। যারা নেন, তারা বেশিরভাগই নতুন প্রজন্মের পাঠক। তারা হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে জানতে চান।’
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকেই বই মেলার সামনে অবস্থান নিতে দেখা যায় বইপ্রেমীদের। ফুটপাথে বসে কিংবা মেলার প্রবেশপথে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় ছিলেন তারা। এর মধ্যে বড় একটি অংশ ছিল বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। এছাড়া মেলায় বিভিন্ন স্কুলের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম থেকে সরাসরি মেলায় নিয়ে আসতেও দেখা গেছে।
উত্তরা থেকে বইমেলায় এসেছেন ফারহান শিকদার। তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। অফিস থেকে ছুটি নিয়ে মেলায় এসেছেন বই কিনতে। এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, বইমেলায় বন্ধের দিন আসা গেলেও একটু শান্তিমতো দেখে-শুনে বই কেনার উপায় থাকে না। কারণ, ছুটির দিনগুলোতে ভিড় থাকে অনেক বেশি। তাই অফিস থেকে ছুটি নিয়ে চলে এসেছেন তিনি।
গত বছর মেলায় নতুন বই প্রকাশে শীর্ষে ছিল কবিতার বই। এ বছরও চিত্রটি একই। এখন পর্যন্ত মেলায় কবিতার বই এসেছে এক হাজার ২৯২টি। এরপরই রয়েছে ছোট গল্পের বই—৬১৩টি, উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে ৫৭৮টি। এ ছাড়া, মেলায় ২৪১টি প্রবন্ধ, ৯১টি বিজ্ঞান, ৯৭টি ছড়ার বই, ৯৪টি ইতিহাস, ২১৩টি শিশুতোষ এবং ৭০১টি অন্যান্য বিষয়ের নতুন বই এসেছে। সোমবার মেলায় নতুন বই এসেছে ১১৭টি।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান বলেন, মেলায় প্রতিবছর কয়েকশ নতুন লেখকের প্রথম বই প্রকাশ পায়। এবারও একই অবস্থা দেখা গেছে। মেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে প্রায় আড়াইশ লেখকের বই ছিল তাদের প্রথম বই।