শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ায় গত অর্থবছরে মাছের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪০ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের চেয়ে বেশি মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে মাছের উৎপাদন ছিল মাত্র ২৮ লাখ ৯৯ হাজার মে. টন।’ তিনি বলেন, ‘দেশের জিডিপিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের অবদান শতকরা ৫ দশমিক ২১ ভাগ। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬১ শতাংশ মানুষ জীবিকার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনগণের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে এই খাত দু’টোর উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার দুই মেয়াদে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য থেকে প্রাপ্ত প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ যোগান দেয় মাছ। দেশের জিডিপি’র ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপি’র প্রায় এক-চতুর্থাংশ মৎস্য খাতের অবদান।’
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে মৎস্য আহরণে ২০১৬ সালে বিশ্বে ৪র্থ স্থান ও অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে ৫ম স্থান অধিকার করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থবছরে ইলিশের আশাতীত উৎপাদনের ফলে উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯৬ হাজার মে. টনে যা মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ১২ শতাংশ। অন্যদিকে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৩ লাখ ১৩ হাজার মে. টন।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত অর্থবছরে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতের আওতায় দেশব্যাপী প্রায় ৫৫৮ দশমিক ৩৫ মে. টন পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে এবং ১ হাজার ২৫১টি বিল নার্সারি স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ১০ কোটি ৪৩ লাখ পোনা উৎপাদিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘গত তিন বছরে উন্মুক্ত জলাশয়ে মোট ২ হাজার ৭৩৬ মে. টন পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে এবং স্থাপিত বিল নার্সারি সংখ্যা বর্তমানে ২ হাজার ৩৪৯টি। গত ৯ বছরে মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ২ হাজার ৭শ’ হেক্টর অবক্ষয়িত জলাশয় পুনঃখনন করে সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়েছে। গত অর্থবছরে ৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে মোট প্রায় ৩৯২ হেক্টর জরাশয় পুনঃখনন ও সংস্কার করা হয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘মৎস্য অধিদফতরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন স্বাদু পানির চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯টি পুরাতন গলদা হ্যাচারি সংস্কার ও আধুনিকায়ন এবং ৬টি নতুন গলদা হ্যাচারি নির্মাণ করে পোস্ট লার্ভি (পিএল) উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের জল সীমায় নজরদারি অনেক জোরদার করা হয়েছে। ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৬২টি ভারতীয়, শ্রীলঙ্কান ও মিয়ানমারের মৎস্য নৌযান বাংলাদেশ নৌবাহিনী আটক করেছে। ২০১৬ সালের জানুয়ারির পর আর কোনও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।’
২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত মৎস্যূ খাতে রাজস্ব কার্যক্রমের পাশাপাশি মোট ২৪টি প্রকল্প মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং কিছু চলমান রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত অর্থবছরে জনপ্রতি দৈনিক দুধের প্রাপ্যতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ দশমিক ৯৭ মিলি লিটার যা ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে ছিল গড়ে ৪৩ দশমিক ৩৫ মিলি লিটার। গত অর্থবছরে জনপ্রতি দৈনিক মাংসের প্রাপ্যতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১ দশমিক ৭৪ গ্রাম, যা ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল গড়ে মাত্র ২০ দশমিক ৪৪ গ্রাম।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত অর্থবছরে জনপ্রতি ডিমের প্রাপ্যতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৭৫টি, যা ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল গড়ে মাত্র ৩২ দশমিক ৪৫টি।’ সূত্র: বাসস