শান্তিরক্ষা মিশনে প্রাণ দিয়েছেন সশস্ত্র বাহিনীর ১১৯ জন

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ (ছবি:সংগৃহীত)শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা খুবই জনপ্রিয়। ১৯৮৮ সাল থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা। কর্তব্যবোধ ও নিষ্ঠাই তাদের আজকের গৌরবোজ্জল অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন তারা। সর্বশেষ বুধবার আফ্রিকার মালিতে ভয়াবহ আইইডি বিস্ফোরণে চার বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর ১১৯ জন জীবন দিয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক।   

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, শান্তিরক্ষা মিশনের বড় জায়গা জুড়ে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণ মানুষের শান্তি ও সুরক্ষায় তারা কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ৬ হাজার ৫৪৯ জন শান্তিরক্ষী কাজ করছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ৫ হাজার ৫১৮ জন, নৌ বাহিনীর ৫০৫ জন ও বিমান বাহিনীর ৫২৬ জন কাজ করছেন।

শান্তিরক্ষীদের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ৫৭ জন নারী সদস্য কাজ করছেন। এরমধ্যে সেনাবাহিনীর ৪৫ জন, নৌ বাহিনীর ২ জন এবং বিমান বাহিনীর ১০ জন সদস্য কাজ করছেন। পৃথিবীর ৪০টি দেশে ৫৪টি মিশনে এক লাখ ৩২ হাজার ৬১৮ জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য তাদের দায়িত্ব পালন সম্পন্ন করেছেন।

নামিবিয়া, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, সোমালিয়া, কুয়েত, সাবেক যুগোশ্লাভিয়া, জর্জিয়া, ইরাক, পূর্ব তৈমুর, হাইতি, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, কঙ্গো, আইভরি কোস্ট, লেবানন, মালি এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে (সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক) কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা হতাহত হয়েছেন।

দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। তারা সামরিক ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন ধরনের সংঘাতের ওপর অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছে। ফলে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের কেউ কেউ পদোন্নতি পেয়ে জাতিসংঘ সদর দফতরেও কাজ করছেন। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সাফল্যের অংশ হিসেবে সিয়েরা লিওনে বাংলা ভাষাকে তাদের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন সড়ক ও স্থাপনা নির্মানের পাশাপাশি এসবের নামও বাংলায় রাখা হচ্ছে।