জানা গেছে, নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ২০১৬ সালে রাজধানীর সড়কগুলোতে বসানো হয় প্রায় ১১ হাজার মিনি ডাস্টবিন। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০০টি করে মোট পাঁচ হাজার ৭০০ মিনি বিন বসানো হয়। উত্তর সিটি করপোরেশনেও বসানো হয় পাঁচ হাজারের বেশি মিনি ডাস্টবিন।
দুই সিটি করপোরেশনে বিনগুলো বসানোর কিছুদিন পরই সেগুলোর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন নগরবাসী। তাদের অভিযোগ, বিনগুলো পরিষ্কার করা হয় না বলেই তারা সেগুলোতে খুব একটা ময়লা ফেলেন না। ফলে অধিকাংশ ওয়েস্ট বিনই খালি পড়ে থাকে। ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে বিনের নিচে ও আশপাশে। নগরবাসীর অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। অনেক বিনেই কয়েকদিনের ময়লা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
কয়েকবার সংস্কার ও চুরি হওয়ার পর দুই সিটি করপোরেশনে বসানো অনেক ডাস্টবিন পুনঃস্থাপন করতে হয়েছে। এসব বিনের একেকটির দাম ছয় হাজার টাকারও বেশি। বিনগুলো মেরামত করতেও একেকটির পেছনে গড়ে খরচ হয়েছে দুই হাজার টাকার বেশি। ফলে কাজে না এলেও এসব বিনের পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হয়েছে দুই সিটি করপোরেশনকে।
সম্প্রতি ফুটপাতের এসব মিনি ডাস্টবিন নিয়ে জরিপ চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শকদের দিয়ে চালানো এ জরিপে দেখা গেছে, সংস্থার ৫ হাজার ৭০০টি বিনের মধ্যে ৫১ শতাংশ বিন রয়েছে। বাকি ২৭ শতাংশ বিন এখন মেরামতযোগ্য, আর ২২ শতাংশ বিনের কোনও হদিস নেই। একই চিত্র ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেও (ডিএনসিসি)। সংস্থাটি এ নিয়ে কোনও জরিপ না চালালেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, মিনি বিনের এই বেহাল দশার অন্যতম কারণ ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। ফুটপাতে দোকান বসানোর জন্য অনেক বিন ভেঙে ফেলেছেন তারা। কখনও কখনও কোথাও কোথাও ভাঙতে না পেরে বিনের মুখ উল্টো করে রাখা হয়, যেন কেউ বিনে ময়লা না ফেলে। অনেক সময় বিনের মুখ পলিথিন বা অন্য কিছু দিয়েও বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।
সড়কের এসব বিনের বাইরে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নগরীর বিভিন্ন বস্তিতে বর্জ্য ফেলার জন্য ২০ হাজার ঢাকনাযুক্ত বিন সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু বিনগুলো উন্নতমানের হওয়ায় অনেকেই বর্জ্য না ফেলে ঘরের মালামাল রাখার কাজে ব্যবহার করছেন।
জানতে চাইলে ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মিনি ডাস্টবিনে সফলতা নেই এটা বলা যাবে না। সড়কের পাশে থাকায় এগুলো বিভিন্ন সময়ে যানবাহনের ধাক্কায় ভেঙে যায়। আবার কখনও হকাররা চুরি করে নিয়ে যায়। যেসব বিন নষ্ট হয়েছে, আমরা সেগুলো মেরামতের জন্য নোট দিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলো ঠিক হয়ে যাবে।’
জানতে চাইলে ডিএনসিসির উপ-প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আবুল হাসনাত মো. আশরাফুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সড়ক পরিষ্কার রাখার জন্য দুই বছর আগে মিনি ডাস্টবিন লাগানো হয়েছিল। কিছু ডাস্টবিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কী পরিমাণ ডাস্টবিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা ফাইল দেখা ছাড়া বলা যাবে না।’