ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদী শক্তি জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালিয়ে জানিয়ে দিচ্ছে, তারা আরও অনেক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমাদের মনে হচ্ছে, তারা কিছুটা দুর্বল হলেও নিষ্ক্রিয় হয়নি।’
আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদকের মন্তব্য, সাম্প্রদায়িক শক্তি এখন আন্ডারগ্রাউন্ডে সক্রিয় আছে। মাঝে মধ্যে তারা হিংস্র থাবা বিস্তার করছে। এই পরিস্থিতিতে ৭ মার্চের জনসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
মন্ত্রীর ভাষ্য, “মুক্তিযুদ্ধের অবিচল সৈনিক ও জনপ্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলা হয়েছে। এই হামলা মুক্তচিন্তা, মুক্তবুদ্ধি, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক মানবতার ওপর আঘাত। এর মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অশুভ ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। হামলাকারীর স্বীকারোক্তি শুনে আমরা বিস্মিত। স্বীকারোক্তিতে সে বলেছে— জাফর ইকবালের ‘ইসলামবিরোধী ভূমিকার’ জন্য নাকি তার ওপর এই হামলা। কিন্তু জাফর ইকবাল ইসলামবিরোধী কোনও ভূমিকা রেখেছেন বলে আমার জানা নেই। এমনকি দেশের কেউই এমন জানে বলে আমার মনে হয় না।”
সেতুমন্ত্রীর মন্তব্য, এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু হামলাকারী নয়, এর নেপথ্যে একটি অশুভ শক্তি আছে বলে মনে করেন তিনি। তার কথায়, ‘এ ঘটনার পেছনে আছে একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি, যারা দেশে জঙ্গিবাদী তৎপরতা চালাচ্ছে। সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষকে যারা লালন-পালন করছে, সেই শক্তি ধর্মের নামে প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের ওপর এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে। জাফর ইকবালের ভাগ্য ভালো যে তিনি বেঁচে আছেন।’
দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা হুমকির মুখে পড়ছেন কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেখুন, সরকার তো নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে না। সরকার সবখানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনিক সব ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং জাফর ইকবালের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। তাই তিনি নিজেই শাবিপ্রবির এই অধ্যাপকের চিকিৎসার তদারকি করছেন। কাজেই যে কোনও আতঙ্ক কিংবা উদ্বেগের মধ্যে সরকার কিন্তু নিষ্ক্রিয় নেই। সরকার যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, এ হামলার চক্রান্তে বিএনপির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই হামলা তাদের চক্রান্ত, যাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে বিএনপি। হামলাকারীকে দিয়ে কে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা ইতোমধ্যে পরিষ্কার। এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন কথা বলে যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে তারা দেশের স্বার্থের পক্ষে কাজ করে না। এর নেপথ্যে যারা আছে তাদেরও খুঁজে বের করা হচ্ছে। হামলাকারী যা স্বীকার করেছে সেই আলোকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমার মনে হয়, নেপথ্যের নাটের গুরুরাও বেরিয়ে আসবে। এ ব্যাপারে সরকার কোনও ছাড় দেবে না। এ ব্যাপারে যেন কোনও গাফিলতির সুযোগ না থাকে তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। ’
এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ।
শনিবার (৩ মার্চ) বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠান চলাকালে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে পেছন থেকে মাথায় ছুরিকাঘাত করে ২৪-২৫ বছর বয়সী এক তরুণ। পরে ফয়জুর রহমান ফয়জুল নামে ওই তরুণকে আটক করা হয়েছে।