পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্র সংস্কার হলে উৎপাদন বাড়বে ৯৬৮ মেগাওয়াট

বিদ্যুৎ কেন্দ্র (ছবি- সংগ্রহ)পুরনো ৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র সংস্কার করে ৯৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এরমধ্যে সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে রি-পাওয়ারিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে, বাকি দুটি সংস্কার করা হচ্ছে। পুরনো সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সংস্কার করে কম্বাইন্ড সাইকেলে রূপান্তর করা হচ্ছে। এতে একই জ্বালানি ব্যবহার করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানতে চাইলে বিদ্যুৎ জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসায় এখন পুরনো কেন্দ্র সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে জ্বালানির সাশ্রয় হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সংস্কারের পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে রি-পাওয়ারিং করা হচ্ছে।’
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, বর্তমানে সব মিলিয়ে দেশে ১০৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টিই গ্যাসভিত্তিক সিম্পল সাইকেলের। এই প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতিরিক্ত গ্যাসের অপচয় হয়। সাধারণত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দিয়ে একটি ১০০ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো সম্ভব। একই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে আরও অনেক কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে।
প্রকৌশলীরা বলছেন, সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা বেরিয়ে যায়। এই তাপমাত্রা স্টিম টারবাইনে ঢুকিয়ে আবার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। একই গ্যাস ব্যবহার করে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় কম্বাইন্ড সাইকেলে। আবার কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে তাপ উৎপন্ন হয় কম। এর তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। ফলে গ্যাসের অপচয় কম হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি অপচয় করেই এসব পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছিল পিডিবি।

সংস্কারের আওতায় থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঘোড়াশাল তৃতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ ইউনিট রি-পাওয়ারিং করা হচ্ছে। এর ফলে প্রথম দুটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১৮০ মেগাওয়াট থেকে ২৩৬ মেগাওয়াট করে বৃদ্ধি পেয়ে ৪১৬ মেগাওয়াট হবে। অর্থাৎ এই দুই ইউনিট সংস্কার করলে ৪৭২ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে। আর ১৯০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার ষষ্ঠ ইউনিটে সংস্কারের পর পাওয়া যাবে ৪১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। অর্থাৎ ২২৬ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ মিলবে একই জ্বালানি খরচে।

ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিটের সংস্কার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ঘোড়াশাল পাওয়ার স্টেশনের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, তৃতীয় ইউনিটের ২৯ ভাগ আর চতুর্থ ইউনিটের ৩৯ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আর ষষ্ঠ ইউনিটের রি-পাওয়ারিংয়ের কাজ এখনও শুরু হয়নি। রি-পাওয়ারিংয়ে জন্য অর্থায়নের চেষ্টা করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

এদিকে, দেশের একমাত্র কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বড়পুকুরিয়ার প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট সংস্কার করে ৬০ মেগাওয়াট উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। নতুন আরও একটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে ওই এলাকার চাহিদা মোকাবিলা সম্ভব হওয়ায় কেন্দ্রটির সংস্কার করা হচ্ছে। এখন বড়পুকুরিয়ার প্রতিটি ইউনিট ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। সংস্কারের পর প্রতিটি ইউনিট ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, বড়পুকুরিয়ার সংস্কারের জন্য চুক্তি হয়েছে। একটি ইউনিটের সংস্কার শুরুও হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ ২১০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা কমে ১৫০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ মেগাওয়াট কমে যাওয়ায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এ বছর ওই কেন্দ্রটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এখান থেকেও ৫০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

বাঘাবাড়ির ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সিম্পল সাইকেল থেকে কম্বাইন্ড সাইকেলে রূপান্তর করা হচ্ছে। এর ফলে কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াট বাড়বে। একইভাবে শাহাজিবাজার ৭০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি কম্বাইন্ড সাইকেলে রূপান্তর করা হচ্ছে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী করে। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১০৫ মেগাওয়াট। দুটি কেন্দ্রেরই দরপত্র প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

এ ছাড়াও, সিলেট ১৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কম্বাইন্ড সাইকেলে রূপান্তর করা হচ্ছে। পিডিবির নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কার করা কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ৭৫ মেগাওয়াট বেড়ে ২২৫ মেগাওয়াটে দাঁড়াবে। গত ২৭ নভেম্বর কেন্দ্রটি কম্বাইন্ড সাইকেলে রূপান্তরের কাজের চুক্তি হয়েছে।