মঙ্গলবার (৬ মার্চ) এক শোকবাণীতে উপাচার্য বলেন, ‘ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ভাস্কর ছিলেন। শিল্পচর্চায় তিনি নতুন ধারার সন্ধান দেন। ভাস্কর্য শিল্পে তার কাঠের কাজ খুবই দৃষ্টিগ্রাহ্য। তার মৃত্যুতে দেশ একজন সৃষ্টিশীল মানুষকে হারালো। সর্বোপরি, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশমাতৃকার প্রতি তার ত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের আমরা সবাই গভীরভাবে শোকাহত।’
উপাচার্য তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের শোক-সন্তপ্ত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তার তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছেন। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মরদেহ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। ওইদিন বাদ জোহর ঢাবির মসজিদুল জামিয়ায় জানাজা শেষে তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী ১৯৪৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খুলনার পাইওনিয়ার গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি এবং খুলনা গার্লস স্কুল থেকে এইচএসসি ও ডিগ্রি পাস করেন। ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। মাঝে কিছুদিন স্কুলে শিক্ষকতাও করেছেন। তিনি ইউএনডিপি, ইউএনআইসিইএফ, এফএও, কানাডিয়ান দূতাবাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। শেষ বয়সে এসে নানা শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে মনোনিবেশ করেন এবং তা অব্যাহত রাখেন। শিল্পকলায় অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি ২০১০ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও তিনি হিরো বাই দ্য রিডার ডাইজেস্ট ম্যাগাজিন (ডিসেম্বর ২০০৪); চাদেরনাথ পদক; অনন্য শীর্ষ পদক; রৌপ্য জয়ন্তী পুরস্কার (ওয়াইডব্লিউসিএ); মানবাধিকার সংস্থা কর্তৃক মানবাধিকার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।