পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক এবং ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পার্মানেন্ট আন্ডার সেক্রেটারি সাইমন ম্যাকডোনাল্ডের মধ্যে আগামী ১৫ মার্চ স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগ হবে এবং সেখানে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হবে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক পুরনো এবং স্ট্রাকচার্ড। যেহেতু দু’দেশের মর্যাদাগত অবস্থান পরিবর্তন হচ্ছে, তাই নতুন কাঠামোর অধীনে সম্পর্কের ব্যাপ্তি ও গভীরতা নির্ধারিত হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করা। পরিবর্তিত কাঠামোতে কীভাবে সেটি করা যায় তা নিয়ে দু’দেশ কৌশলগত আলোচনা করবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, গত বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য প্রথম স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগে আমরা একমত হয়েছিলাম পরিবর্তিত কাঠামো নিয়ে আলোচনা করবো।
কী কী বিষয় ওই আলোচনায় প্রাধান্য পাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, অবৈধভাবে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন, নলেজ ও ইনোভেশন বিনিময় ইত্যাদি বিষয় দু’দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক সম্পর্ক
দু’দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার জন্য রাজনৈতিক যোগাযোগ সবচেয়ে জরুরি। এজন্য আগামী এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র মধ্যে একটি বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।
কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য এপ্রিলে যুক্তরাজ্য যাবেন শেখ হাসিনা।
মন্ত্রণালয়ের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর কমনওয়েলথের গুরুত্ব বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশ কী ভূমিকা রাখতে পারে সেটি নিয়েও আমাদের আলোচনা হবে।
বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা
উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার পর বাংলাদেশ যদি শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখতে চায় তবে ভিন্ন একটি পদ্ধতির মাধ্যমে সেটি পেতে হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা চাই বর্তমান সুবিধা অব্যাহত থাকুক এবং সেজন্য যদি ভিন্ন কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় সেই বিষয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই।
তিনি জানান, শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখা হবে বলে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে।
যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের ফেরত পাঠানো
যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে চায় ওই দেশের সরকার। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের কোনও আপত্তি নেই।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানকারীবাংলাদেশিদের ফেরত আনার জন্য ইতোমধ্যেই চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ওই চুক্তির আদলে যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও নতুন চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ।
রোহিঙ্গা সংকট
রোহিঙ্গা সমস্যায় যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে সহায়তা করছে। ১৫ মার্চের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের আরও সহায়তা চাইবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মানবিক সহায়তায় যুক্তরাজ্য আমাদের সাহায্য করছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে যুক্তরাজ্য কী ভূমিকা রাখতে পারে সেটি নিয়ে আলোচনা হবে।