রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার প্রমাণ সংগ্রহ করবে জাতিসংঘ

রোহিঙ্গা (ছবি- সংগৃহীত)রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জাতিসংঘ। একটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ উপদেষ্টা আদামা দিয়েং। রবিবার (১১ মার্চ) জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকের পর মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, জাতিসংঘ কনভেনশনে গণহত্যা সংক্রান্ত অপরাধের সংজ্ঞা অনুযায়ী জাতিসংঘ এখন পাঁচ ধরনের অপরাধ সংঘটনের ওপর কাজ করে থাকে। মিয়ানমারের রাখাইনে এসব ঘটনার প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে জাতিসংঘ। কারণ, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সেখানে কয়েক মাস আগে যে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী নিধনের মতো অত্যাচার চালিয়েছে, সে সম্পর্কে এরই মধ্যে সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া গেছে।
রিয়াজুল হক বলেন, ‘আদামা আমাকে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত দল মিয়ানমারে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তারা যদি গণহত্যার ওপর পাঁচটি বৈশিষ্ট্য পেয়ে যান, তাহলে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা যাবে।’
জাতিসংঘের টিমকে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চল রাখাইন রাজ্যের ধ্বংসযজ্ঞ পরিদর্শনে অনুমতি দেওয়া হবে কিনা—আদামা দিয়েং এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন জানিয়ে মানবাধিকার কমিশনের প্রধান বলেন, এমন আশঙ্কা আমাদেরও রয়েছে। এটি মিয়ানমারের ওপর নির্ভর করছে।
এর আগে, গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হত্যাযজ্ঞ চালাতে শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপর দলে দলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে শুরু করে। গত বছরের ডিসেম্বর নাগাদ প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে এসে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশের কক্সবাজার ও বান্দরবানের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চূড়ান্ত মাত্রার নির্যাতনের বিষয়টি আলোচনায় এলেও ওই সময় থেকেই কোনও আন্তর্জাতিক গ্রুপকে ওই রাজ্যটি পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বাসস।
আরও পড়ুন-
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার আশ্বাস মোদির

রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় একশো কোটি ডলার চায় জাতিসংঘ