একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিবেদক ঝুমুর বারি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিমানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এখানে আহতদের যথেষ্ট ভালো চিকিৎসা হচ্ছে। তাদের বাইরের কোনও দেশে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকলেও বাকিরা কয়েকদিনেই সুস্থ হয়ে দেশে ফিরতে পারবেন।’”
যদিও একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিবেদক ফাল্গুনি রশীদ হাসপাতালগুলো ঘুরে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘আহতদের আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তারা সঠিক তথ্যটি বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাননি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তারা আহত স্বজনের খোঁজ পেয়েছেন।’ ফাল্গুনি জানান, তিনি কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিকেলবেলা বার্ন ইউনিটে গিয়েছিলেন। সেখানে একজনকে পেয়েছেন যার কোনও স্বজন এখনও নেপালে আসেননি। তিনি গতকালকের চেয়ে আজকে ব্যথায় বেশি কাতর। স্বজনরা বলছেন, আইসিইউ-এর মতো বড় খরচগুলো ইউএস বাংলা দিলেও বাকি অন্যান্য খরচ তাদের নিজেদেরই বহন করতে হচ্ছে।
ঢাকা ট্রিবিউনের রিপোর্টার শরিফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি গিয়ে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. প্রমোদ শ্রেষ্ঠার। তিনি তার সঙ্গে ময়নাতদন্ত থেকে শুরু করে মরদেহ হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়া বলেছেন। তাতে দুই-তিন দিন সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইউএস বাংলার কেবিন ক্রু খাজা হোসেন মো. শফির পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের কর্তৃপক্ষ বলে আনেনি মরদেহ নেওয়ার প্রক্রিয়াটি এতটা দীর্ঘ হতে পারে। বোন নাসিমা সাইফুল্লাহ বলেন, তাদের থাকতে হবে এমন কোনও ধারণা তাদের ছিল না। এদিকে নাবিলার পরিবারের সদস্য বেলাল হোসেন বাবলু বলেন, সকাল থেকেই তিনি ঘুরছেন কিন্তু বোনের কোন খবর পাওয়া যাচ্ছে না।’
এটিএন নিউজ-এর প্রতিবেদক মফিদুল তপু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানে যারা আহত হয়ে আছেন তারা ভীষণ ট্রমাটাইজ এবং তাদের যে স্বজনরা আছেন তারা সমপরিমান ট্রমাটাইজ। আমরা প্রথমদিন হাসপাতালে গিয়েছি, রোগীদের দেখেছি কিন্তু কথা বলার চেষ্টা করিনি। বুধবার আমি কথা বলার চেষ্টা করে দেখবো। স্বজনরা এতটা আবেগাক্রান্ত হয়ে আছেন, ট্রমাটাইজ হয়ে আছেন যে এই মুহূর্তে তাদের কোনোরকম বিরক্ত করতে চাই না। আমি আহতদের দেখেছি। একজন আইসিইইউতে আছে, তাকে বাদ দিয়ে বাকি আট জন। এদের সবার অবস্থাও ভালো না। পুড়ে গেছে শরীর। এখানে আসার পর স্বজনদের দেখে মনে হচ্ছে, তারা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছেন না।’