বুধবার কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘মাসিক সমন্বয় সভা ও স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রামের (স্টেপ) অগ্রগতি’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন। তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে কারিগরি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। সময়োপযোগী এ শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে নিষ্ঠা, সততা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে শিক্ষকদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে হবে।’ কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সহযোগিতা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দেশে ১২৫টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৪ হাজার ১৭৮ জনকে বৃত্তি , ৯২ হাজার ১২৮ জন উপবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। গত বছর ৩০৭ জন ডিপ্লোমা পর্যায়ের শিক্ষার্থী স্কলারশিপ পেয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কারিগরি শিক্ষাকে জনপ্রিয় করতে মাস্টার্স/পিএইচডি পর্যায়ে স্কলারশিপ দেওয়ার পাশাপাশি স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। অদক্ষ, আধা দক্ষদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে এ অধিদফতর। সে অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক সুবিধা বঞ্চিত যুবকদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে নানা ধরনের কর্মসংস্থানের।
স্টেপ’র প্রকল্প পরিচালক এ বি এম আজাদ বলেন, কারিগরি শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্টেপ একটি বড় প্রকল্প। ১ হাজার ৭৮২ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি বিশ্ব ব্যাংক, কানাডা ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত। পাঁচ বছর মেয়াদী প্রকল্পটি ২০১০ সালে শুরু হয়। পরবর্তীতে এর মেয়াদ এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়। সাফল্যের কারণে প্রকল্পটি পরবর্তীতে তিন বছরের জন্য বাড়িয়ে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রায় ৯ বছরের প্রকল্প এটি।
কাজী কেরামত আলী বলেন, সরকার কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং শতভাগ বৃত্তি প্রদান করছে। পাশাপাশি ছেলেদেরও কারিগরি বৃত্তি সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। ফলে কারিগরি শিক্ষার নিতে এখন অনেকেই উৎসাহী। খবর বাসস।