নেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত শাহরিন আহমেদকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আনা হয়েছে। হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় ঢামেক হাসপাতালে এসে পৌঁছায়। এসময় বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. সামন্ত লাল সেন শাহরিন আহমেদকে গ্রহণ করেন।
এর আগে কাঠমান্ডু থেকে শাহরিনকে বহনকারী বিমানের একটি ফ্লাইট বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) ৩টা ৪৮ মিনিটে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। শাহরিনকে নিয়ে যেতে আগে থেকেই সেখানে অপেক্ষা করছে অ্যাম্বুলেন্স। ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে বিমানবন্দর থেকে তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স বের হয় । ঢামেকের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ডা. পার্থ শংকর পাল বলেছিলেন, ‘শাহরিনকে বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হবে। তাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে।’ শাহরিন আহমেদ ঢাকায় পৌঁছার আগেই বিমানবন্দরে অ্যাম্বুলেন্স রেডি রাখা হয়েছে। দুজন নার্সও এসেছেন অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে। সুমন কুমার সরকার ও সুমনা খানম এই দুজনই ঢামেক এর সিনিয়র স্টাফ নার্স।
বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শাহরিন ঢাকায় আনা হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (বিজি ০৭২) নেপাল থেকে শাহরিনকে নিয়ে আসা হচ্ছে। বিকাল পৌন ৪টার দিকে তার এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তার সঙ্গে তার দুই ভাই রয়েছেন। তিনি পায়ে আঘাত পেয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) সকালে কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের দেখতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস সাংবাদিকদের বলেন, ‘একজন আজ দেশে যাচ্ছেন। তার নাম শাহরিন আহমেদ। বিমান ঠিক সময়ের আসলে দুপুর দেড়টার ফ্লাইটে তিনি দেশে ফিরবেন।’
গত সোমবার (১২ মার্চ) নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার একটি বিমান ৬৭ যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫১ জন নিহত হন। এর মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি।