নেপালে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বেঁচে ফিরে আসা আহত শাহরিন আহমেদ তার ভাই ক্যাপ্টেন সরফরাজকে বলেছেন, ‘বিমান বিধ্বস্তের পর নেপাল আর্মির সদস্যরা যদি আমাকে টেনে না তুলতেন, তাহলে আমি ওখানেই আগুনে পুড়ে মারা যেতাম।’
শাহরিনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) বিকালে এ তথ্য জানিয়েছেন তার ভাই সরফরাজ। তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার সময়ের কথা ও নিজের বেঁচে যাওয়ার স্মৃতিচারণ করার সময় শাহরিন কাঁদছিল। সে প্রচণ্ড ট্রমার ভেতর আছে।’
নেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত শাহরিন আহমেদকে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করানোর পর সেখানে তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়েছেন। হাসপাতালে তার সঙ্গে আছেন মা ফেরদৌসী মোশতাক। শাহরিনের সার্বিক অবস্থা জানাতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত শাহরিনের ভাই ক্যাপ্টেন সরফরাজ আহমেদ বলেন, ‘ওর (শাহরিনের) যে শারীরিক অবস্থা তা অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো। আমি প্রত্যেকের কাছে গিয়ে দেখেছি কার কী অবস্থা। নেপালের ডাক্তাররা বলেছেন, শাহরিনের স্কিন ড্রাফটিংয়ের প্রয়োজন আছে। যদি আমরা এই চিকিৎসা নেপালে করাতাম তাহলে ওকে আরও এক মাস ওখানে রাখতে হতো। একারণে তাকে আমরা দ্রুত দেশে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওখানকার প্লাস্টিক সার্জন ও অর্থোপেডিক সার্জনের সঙ্গেও আমার আলাপ হয়েছে। তারাই তাকে নিয়ে আসার ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন।’
আহত শাহরিনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘তার পায়ে একটা ভাঙা আছে। সেটার অপারেশন লাগতে পারে। যেহেতু সে এক পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারছে, তাই তাকে আমরা দেশে আনতে পেরেছি। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার একঘণ্টার মধ্যেই সে ফোন দিয়েছে। সেদিন টেলিভেশনের মাধ্যমে খবর রাখা হচ্ছিল। সে রাতেই নেপাল যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমি যেহেতু সেনাবাহিনীতে কর্মরত, তাই অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘শাহরিন যেহেতু সামনের সিটে বসে ছিল, তাই সে বেঁচে গেছে। সামনের দিকের সিটে যারা বসে ছিলেন তারা সবাই বেঁচে গেছেন। পেছনের দিকে যারা ছিলেন, তাদের বেশির ভাগেই আগত বা নিহত হয়েছেন।’
নিজের উদ্ধার পাওয়ার ব্যাপারে শাহরিন বলেছে, ‘ভাইয়া, নেপাল আর্মির লোকেরা যদি আমাকে টেনে না তুলত তাহলে আমি ওখানেই আগুনে পুড়ে মারা যেতাম। এসব বলার সময় শাহরিন কাঁদছিল এবং সে প্রচণ্ড ট্রমার ভেতর আছে।’
দুর্ঘটনার ব্যাপারে শাহরিনকে প্রশ্ন করে তাকে আরও ট্রমার মধ্যে ঠেলে না দেওয়ার জন্য গণমাধ্যমকে অনুরোধ করেছেন শাহরিনের ভাই সরফরাজ।
জানা গেছে, আহত শাহরিন স্কলাশটিকার সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার। তিনি একটা গ্রুপের সঙ্গে নেপাল বেড়াতে গিয়েছিলেন। ওই গ্রুপের বেশিরভাগই মারা গেছেন। অল্প কয়েকজন বেঁচে গেছেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ মার্চ) নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার একটি বিমান ৬৭ যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫১ জন নিহত হন। এর মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। আহত শাহরিনকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে ঢাকা মেডিক্যালে এসে পৌঁছায়। এসময় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন এবং ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন তাকে রিসিভ করেন, এরপর আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
আরও খবর:
নেপালে বিমান বিধ্বস্তে আহত শাহরিনের অবস্থা স্থিতিশীল
নেপালে বিমান বিধ্বস্তে আহত শাহরিন ঢামেক আইসিইউতে (ভিডিও)