দেয়ালে দেয়ালে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং দীর্ঘ ৯ মাসের আত্মত্যাগের পর স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পেছনের প্রকৃত ইতিহাস জানতে চায় সাধারণ মানুষ। হাতের কাছেই মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনার সুযোগ পেলে তাদের এই আগ্রহটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্বাধীনতা দিবস কিংবা বিজয় দিবসের মতো জাতীয় দিবসগুলোতে সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার বিভিন্ন উদ্যোগে তাই সাড়া পড়ে যায়। এসব আয়োজনে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের উপস্থিতি আর বিভিন্ন বিষয়ে তাদের প্রশ্ন ও কৌতূহল জানিয়ে দেয়, সুযোগ পেলে তারা স্বাধীনতার প্রকৃত ও সঠিক ইতিহাসটিই জানতে আগ্রহী।
স্থিরচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসাধারণ মানুষরা বলছেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ওপর কালো থাবা পড়েছে বহুবার। পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে সব জায়গায় ইতিহাসকে বিভিন্নভাবে বিকৃত করা হয়েছে। তাই বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সঠিক ও প্রকৃত ইতিহাস জানার একটা বাড়তি আগ্রহ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ভিডিও ও স্থিরচিত্রগুলো তাদের এই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আজ মহান স্বাধীনতা দিবসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা জাদুঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল বিভিন্ন বয়সী মানুষকে। শিক্ষার্থী থেকে দিনমজুররাও ছিলেন সেখানে। উপস্থিত মানুষের ভিড়ের কারণে জাদুঘরে প্রবেশের পথেই তৈরি হয় দীর্ঘ লাইন। লম্বা লাইন দেখে যারা ভেতরে ঢুকবেন কি ঢুকবেন না— সেই দ্বিধায় ভুগছেন, তারা বাইরের দেয়ালে লাগানো স্থিরচিত্রগুলোই দেখছেন মনোযোগ দিয়ে।
স্থিরচিত্রে তুলে ধরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ছেন একজনজাদুঘরের সামনে দাঁড়ানো দিনমজুর রহিমুদ্দিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সব কিছু বন্ধ থাকায় কাজে না গিয়ে চলে এসেছেন স্বাধীনতা জাদুঘরে। জাদুঘরে প্রবেশের মুখে লম্বা লাইন দেখে বাইরেই লাগানো মুক্তিযুদ্ধের স্থিরচিত্র দেখছেন। কী দেখছেন জানতে চাইলে রহিমুদ্দিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখি। ৭ মার্চের ভাষণের ছবিও অনেক কিছু বলে। তার এক আঙুলের ইশারাই স্বাধীনতার ডাকের জন্য যথেষ্ট ছিল।’
মগবাজার থেকে পরিবার নিয়ে এসেছেন মাকসুদ আলম। পেশায় ব্যবসায়ী। ৮ বছরের ছেলেকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বাধীনতা জাদুঘর প্রাঙ্গণে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস একরকম পড়েছি। যতই দিন গেছে, ইতিহাসের ওপর বারবার আঘাত এসেছে। আমরা পরে সত্যটা জেনেছি। কিন্তু চাই না সন্তানেরা ভুল কিছু শিখুক। তারা ছোটবেলা থেকেই সঠিক ইতিহাস জানুক। ভুল ইতিহাস নিয়ে তারা যেন বড় না হয়, তাই এখানে নিয়ে এসেছি।’
মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে ইনস্টলেশন আর্টএদিকে, স্বাধীনতা জাদুঘরের সামনে একাত্তরের গণহত্যার প্রতিচ্ছবি হিসেবে তৈরি করা হয়েছে কয়েক ধরনের ইনস্টলেশন আর্ট। কঙ্কালের গায়ে রক্তের ছাপ, পোড়া কাঠ দিয়ে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে একাত্তরের গণহত্যার চিত্র। জাদুঘরের সামনে গোল পানির ফোয়ারায় লাল রঙ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে রক্তের প্রতীকী চিহ্ন। পাশেই স্থান দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি। আর সেগুলোকে ঘিরেই ভিড় বিভিন্ন বয়সী ও শ্রেণিপেশার মানুষের।
আরও পড়ুন-
প্রিয়ভাষিণী মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাননি, জানেন না মন্ত্রী
নৃশংসতার যে বিবরণগুলো কাঁপিয়ে দিয়েছিল বিশ্বকে
বঙ্গভবনে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথি