শেখ হাসিনা কাঁদলেন

স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় বক্তব্যের এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা (ছবি- টিভি থেকে নেওয়া)জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের লক্ষ্য ছিল, দেশের মানুষের উন্নত জীবনমান। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি দেশকে পরিচালনা করে গেছেন। আজ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি পেলেও তা দেখে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি জাতির জনকের। মানুষের কল্যাণে তার সেই সংগ্রাম, তার সেই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেই কান্না আটকে রাখতে পারলেন না তার কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বললেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) যেখানেই থাকুন না কেন, নিশ্চয় তিনি সব দেখছেন।

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আজ মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় এ আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। দেশের স্বাধীনতায়, দেশের মানুষের কল্যাণে জাতির জনকের অবদান, আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ এলে এদিন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতির পিতার অবদান স্মরণ ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সারাজীবন সংগ্রাম করে জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। দেশে যখন উন্নয়ন হয়, তার কথা মনে হয়। তিনি যেখানেই থাকুন, নিশ্চয় দেখেন। তার দৃষ্টি নিশ্চয় আমাদের ওপর আছে, তিনি নিশ্চয় আমাদের নিয়ে ভাবেন। নইলে আমার কী ক্ষমতা আছে, কী যোগ্যতা আছে দেশের এত উন্নতি করার। ওপর থেকে সবসময় তিনি নিশ্চয় সবকিছু দেখছেন।’

প্রধানমন্ত্রী কান্নাজড়ানো কণ্ঠে আরও বলেন, ‘আজ আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হয়েছি। আব্বাকে যদি একটু দেখাতে পারতাম, তবে কিছুটা হলেও শান্তি পেতাম। কখনও কখনও আমরা দুই বোন একসঙ্গে হলে এসব নিয়ে কথা বলি। মনে হয়, আব্বা শুনতে পান।’

আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন শেখ হাসিনা (ছবি- ফোকাস বাংলা)তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তার স্বপ্ন ছিল দেশের মানুষ ভালোভাবে বাঁচবে, উন্নত জীবন পাবে। সেটুকু করতে পারলেই আমার সার্থকতা। আমি বলতে চাই, আমাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা যেন ব্যর্থ না হয়।

এর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জাতির পিতা দেশকে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, তার সুফল আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবো। মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া রাজনীতিবিদদের কর্তব্য। জাতির পিতা তাই করে গেছেন। তার কন্যা হিসেবে আমিও সেটাই করে যাচ্ছি। জনগণ সুন্দর জীবন পাবে— সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই— কেউ না খেয়ে থাকবে না, কেউ গৃহহারা থাকবে না, কেউ চিকিৎসা না পেয়ে মরবে না। আমাদের লক্ষ্য তৃণমূল থেকে উন্নয়ন করা, গ্রাম থেকে উন্নয়ন করা। জাতির পিতা গ্রামের মানুষকে ভালোবাসতেন। তাদের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন। আমাদেরও তাই একটাই লক্ষ্য— স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া। দেশের কোনও ঘর অন্ধকার থাকবে না। প্রতি ঘর আলোকিত হবে। আমরা এই নীতি নিয়ে চলি বলেই দেশের উন্নতি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু ১৯৭৫-এর পর কী হয়েছে, আপনারা জানেন। ২১ বছর দেশের মানুষ কী পেয়েছে? শূন্য। সেই জিয়ার আমল থেকেই শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীনরা দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। তারা নিজেদের সাজুগুজু নিয়ে ব্যস্ত। দেশের মানুষ না খেয়ে থাকলে তাদের কী। কিন্তু আমাদের চিন্তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটু দামি শাড়ি-গহনা পরলে বাবা বলতেন, এই দেশের মানুষ তো একবেলা ভাত খেতে পায় না। এত দামি কাপড়-গহনা কাকে দেখাবে? রাজনীতিবিদ হিসেবে জনগণকে কী দিতে পারলাম, তাদের জন্য কতটুকু করে যেতে পারলাম— এই চিন্তা করতেই শিখেছি বাবার কাছে।’
আরও পড়ুন-
‘এ দেশ জঙ্গিদের হবে না, স্বাধীনতাবিরোধীদের হবে না; এ দেশ হবে মুক্তিযোদ্ধাদের’
‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যারা গ্রেফতার করিয়েছিল, তাদের হিসাব নেওয়া হবে’