মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে চলে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের উদ্যোগে মিয়ানমার অবশেষে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে ইউএনএইচসিআর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে সম্মতি জানিয়েছে মিয়ানমার।
বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে এক সেমিনার শেষে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। মে মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওআইসি’র ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক নিয়ে ওই সেমিনার আয়োজন করা হয়।
সেমিনার শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়— রোহিঙ্গাদের নিজেদের দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার কবে থেকে কাজ শুরু করবে। এর জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি মিয়ানমারের বিষয়। আমার পক্ষে বলা সম্ভব না।’
এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে নিবন্ধিত করা হয়েছে বলে জানান শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘দুই মাস আগে আমাদের দুই দেশের মধ্যে চুক্তি ও ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জেমেন্ট সই হয়েছে। তবে এখনও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠনো যায়নি। এজন্য আমরা বিচলিতও নই। বরং তড়িঘড়ি করে রোহিঙ্গাদের পাঠিয়ে দিলে সমস্যা হতে পারে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অগ্রগতি ধীরে হলেও, আমরা ঠিক পথে আছি। প্রসেসটা ঠিক পথে আছে। মানবিক কারণে আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ওআইসির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে আমরা ৮ হাজার ৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা দিয়েছিলাম। এখন আমরা দ্বিতীয় তালিকা দেবো।’
ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠককে একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলবো।’
আরও পড়ুন: তৈরি হচ্ছে আরও একটি রোহিঙ্গা তালিকা