‘আপনাদের এলাকার বিমান প্রতিমন্ত্রী আপনাদের বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে’

ঠাকুরগাঁওয়ের জনসভায় বক্তব্য রাখছেন শেখ হাসিনা (ছবি- টিভি থেকে নেওয়া)বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিমান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী থাকলেও এই এলাকার সৈয়দপুর বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সে (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) ছিল বিমান প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু এখান থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর। সেই বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছিল। এখানকার বিমানমন্ত্রী, অথচ এখানকার এয়ারপোর্টই বন্ধ করে দেয়। আমরা আজ এই বিমানবন্দর চালু করে দিয়েছি। এখান থেকে এখন সব মানুষ যাতায়াত করতে পারছে। তারা রাজশাহী বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছিল, আমরা চালু করেছি। তারা বরিশাল বিমানবন্দর বন্ধ করেছিল, আমরা চালু করেছি।’
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) বিকাল ৩টায় ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা স্কুল বড় মাঠের সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, আইটি পার্ক ও কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের এই নির্বাচনে আসনে এসে জনসভায় তার তীব্র সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সারাদিন কথা বলেন। দিন-রাত মিথ্যা কথা বলতে বলতে তার গলা ব্যাথা হয়ে যায়। কিন্তু মিথ্যা বলারও একটা সীমা আছে। এত মিথ্যা বললে আল্লাহও নারাজ হয়।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সে (মির্জা ফখরুল) তো বিমানমন্ত্রী ছিল। কিন্তু বিমানের কী উন্নয়ন করেছিল, বলেন। আমরা ক্ষমতায় এসে দেখলাম বিমান চলে না। সব টাকা-পয়সা লুটপাট করে নেওয়া হয়েছে, বিমানকে ধ্বংস করে রেখে গেছে।’
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিমানের উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক মানের আটটি বিমান কিনেছি। আরও দুইটি বিমান আসবে। আজ আমরা অন্তত বিমানকে উন্নত করেছি। বিএনপি ধ্বংস করতে জানে, সৃষ্টি করতে জানে না। তারা মানুষের কাছ থেকে নিতে জানে, দিতে জানে না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা ক্ষমতায় থাকতে পাঁচ পাঁচ বার বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কেন হয়েছিল? তারা তো পুরো দেশটাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। খালেদা জিয়া ও তার ছেলেরা অর্থসম্পদ লুটপাট করে পাচার করেছে। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সেই তথ্য বের করেছে, সিঙ্গাপুরে সেটা ধরা পড়েছে। আমরা সেই টাকা ফেরত পর্যন্ত এনেছি। সেই টাকা এখন জনগণের কাজে লাগাচ্ছি। আর ওরা (বিএনপি) জানে লুটপাট, দুর্নীতি, খুন।’
জনসভাস্থল থেকে ৬৬টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও ৩৩টি উন্নয়ন কাজেরও ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন।
আরও পড়ুন-
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী, জনসভাস্থলের দিকে মানুষের ঢল