‘নৌকা মার্কা’য় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘নৌকায় ভোট দেন, সোনার বাংলা উপহার দেবো।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি, তারা তো লুটপাটেই ব্যস্ত, দুর্নীতিতেই ব্যস্ত। ৯৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা তার ছেলেরা ব্যাংক থেকে লুট করে নিয়ে গেছে। একটা টাকাও ফেরত দেয় নাই।’
তিনি বলেন, ‘এতিমদের জন্য টাকা এসেছে। একটি টাকাও এতিমদের দেয় নাই। নিজেরা মেরে খেয়েছে। মামলা দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই মামলায় আদালত শাস্তি দিয়েছে। এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার বিষয়ে কোরানেও বলা আছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। যে এতিমের টাকা চুরি করে তার জন্য আন্দোলন কিসের?’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গলা ফুলিয়ে কথা বলতে বলতে গলাও খারাপ হয়ে যায়। গলার চিকিৎসা করাতে হয়। সারাদিন মিথ্যা কথা বললে আল্লাহ নারাজ হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম সারাদিন মিথ্যা কথা বলেন।’
তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম বিমান প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সৈয়দপুর বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আমরা ক্ষমতায় এসে সেই বিমানবন্দর চালু করেছি। এরা ধ্বংস করতে পারে, সৃষ্টি করতে জানে না। লুটপাট করতে জানে, উন্নয়ন দিতে জানে না।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপির এটাই কাজ, মানুষকে হত্যা করা। মানুষ হত্যা করে তারা দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চাইছিল? আমি ধন্যবাদ জানাই বাংলার মানুষকে।’
বিএনপি উন্নয়ন না করতে পারার কারণ হিসেবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারণ, তার সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায় নাই, বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন চায় না। বাংলাদেশের মানুষকে দরিদ্র করে রাখতে চেয়েছিল। তাদের হাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন হতে পারে না।’
ঠাকুরগাঁওবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন,‘আমার কাছে দাবি করার প্রয়োজন নাই। এই বাংলাদেশকে আমি চিনি। আমি সমগ্র বাংলাদেশ সফর করেছি। আমি জানি কোথায় মানুষের কী লাগবে।’
নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌকায় ভোট দেন, সোনার বাংলা উপহার দেবো।’
আমরা দেশের উন্নয়ন চাই। বিএনপি আসা মানে দেশ ধ্বংস হওয়া আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারা। জঙ্গিবাদ, লুটপাট, দুর্নীতি করা। আওয়ামী লীগ আসা মানে উন্নয়ন, শান্তি, দেশের উন্নতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া, মানুষের উন্নত জীবন। গ্রামের মানুষ থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি মানুষ যাতে শান্তিতে থাকে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে নৌকায় ভোট চাই। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্যে আমি আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। নৌকা মার্কা দেবে আপনাদের উন্নতি ও শান্তি, জীবনমানের উন্নতি।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন— কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচএম মাহমুদ আলী, দলের যুগ্ম সাধারণ মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ প্রমুখ।
আরও পড়ুন:
‘আপনাদের এলাকার বিমানমন্ত্রী আপনাদের বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে’