বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। এই স্বাধীন রাষ্ট্রের চিফ জাস্টিসকে (প্রধান বিচারপতি) যখন কেউ ‘তুই’ সম্বোধন করে কথা বলে তখন বুঝে নিতে হবে এই অপমান শুধু চিফ জাস্টিসের না, আমাদের সবার, এদেশের ১৬ কোটি মানুষের। মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন গণফোরাম সভাপতি এবং সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন।
তিনি আরও বলেন, এদেশের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু তারাই কেন জানি কোনও সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। এদেশের প্রধান বিচারপতিকে যখন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া লাগে তখন কষ্টের সঙ্গে বলতে হয় এদেশে সুশাসন নয়,দুঃশাসন চলছে।
ড. কামাল আরও বলেন,এদেশের সংবিধানে জনগণকে ক্ষমতার মালিক বলা হলেও জনগণের তোয়াক্কা না করেই এদেশে আইন প্রণয়ন করা হয়ে থাকে যা সংবিধানবিরোধী। ৬০ জন বিচারক ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়েছিলেন। এখন রাষ্ট্র সেই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করেছে। দেখা যাক কী হয়।
লেখক এবং কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মাকসুদ বলেন,আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে সাধারণ মানুষ থাকবে স্বস্তিতে,অন্যায়কারী থাকবে ভয়ে এবং সবচেয়ে দুর্বল মানুষ থাকবে নিরাপদে। দেশে আইনের শাসন আছে কিনা সেটা তারাই বলতে পারবেন যার পরিবারের কেউ একজন নিখোঁজ রয়েছেন। সুশাসনের কথা তারাই বলতে পারবেন যার পরিবারের কেউ পুলিশ হেফাজতে মারা গেছে।
সুজনের নির্বাহী সদস্য ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন,আমি ‘ভিআইপি’ শব্দটি সংবিধানের কোথাও খুঁজে পাইনি। জানি না কে কাকে এ প্রথা প্রচলন করার অধিকার দিয়েছে। অথচ যে কোনও সুবিধা ভোগ করার আগেই অধিকাংশ অংশ কোটায় শেষ হয়ে যায়। কোন ভিআইপিরা তা পাচ্ছেন তা জনগণ নিজের চোখে দেখছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন,জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধির দ্বারাই আইন প্রণয়ন করা উচিত বলে মনে করি। কিন্তু, এদেশে জনগণের প্রতিনিধি না থাকলেও আইন ঠিকই হচ্ছে। তাহলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে কী করে? জনগণের সরকার ব্যতীত কোনোভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হতে পারে না। এদেশে কেউ বিচার পাচ্ছে, কেউ পাচ্ছে না, কেউ জামিন পাচ্ছে, কেউ পাচ্ছে না। এখানে সুশাসন নেই, আইনের শাসনও নেই। এখানে শুধু শাসকের শাসন আছে।
সুজনের নির্বাহী সদস্য বিচারপতি কাজী এবাদুল হকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিচারপতি আব্দুল মতিন,সুজনের নির্বাহী সদস্য সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম,নাগরিক ঐক্যের প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ এসএম আকরাম প্রমুখ।