ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে গণসমাবেশ


ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে গণসমাবেশ ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গণসমাবেশকরা হয়েছে। শুক্রবার (৬ এপ্রিল) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘গৌরব ৭১’ ও ‘অপরাজেয় বাংলা’র যৌথ উদ্যোগে এ গণসমাবেশ ও প্রতিবাদী গানের আয়োজন করা হয়। গণসমাবেশে আরও অংশ নেয় জাতীয় প্রগতিশীল পেশাজীবী পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু গবেষণা সংসদ।

প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানানো হয়।

এসময় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস। তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন ও ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। পাঠ্য বইয়ে ধর্ষণ ও নৈতিক শিক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শুধু দুশ্চরিত্র মানুষই ধর্ষণ করে না, অনেক সময় ভালো মানুষের মুখোশধারী ব্যক্তিদের মাধ্যমেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অনেক সময় রাজনৈতিক কারণেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে, এখনই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনও ধর্ষক পার পেয়ে না যায়।’  

ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে গণসমাবেশগণসমাবেশে বঙ্গবন্ধু গবেষণা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, ’ধর্ষণ শব্দটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনেক বড় লজ্জার। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে আমাদের। ধর্ষণের যে আইন আছে, সেটাকে সংশোধন করে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করতে হবে, যাতে দ্রুততম সময়ে ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত হয়।’

এসময় সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ‘বর্তমান নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে যেন বাংলাদেশ একাত্তরে ফিরে গেছে। একাত্তরে পাকিস্তানিরা যেমন নারীদের অপমানের বস্তু হিসেবে ব্যবহার করেছিল, বর্তমানে নতুন করে সাম্প্রদায়িক শক্তি সেই কাজই শুরু করেছে। দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ থাকলেও ধর্ষণের ঘটনা এখনও বন্ধ হয়নি। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে গণসমাবেশঅপরাজেয় বাংলা’র আহ্বায়ক এইচ রেহমান মিলু বলেন, ‘হত্যা চেয়ে ধর্ষণ কোনও অংশেই ছোট অপরাধ নয়। যিনি ধর্ষিত হচ্ছেন তিনি প্রতিনিয়তই মারা যাচ্ছেন।’ ধর্ষণের বিচারের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ ও এই জঘন্য অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান তিনি। এছাড়াও ধর্ষণের বিচারের জন্য একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও দাবি জানান এইচ রেহমান মিলু।

এসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক সালমা আহমেদ বলেন, ‘ধর্ষণ শুধু একটি ব্যাধি নয়, এটি একটি অপরাধ। যারা এ কাজ করে তাদের জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।’

প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফা রহমান রুমা, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের সহসভাপতি ডা. মাহবুবুর রহমান, প্রজন্ম একাত্তর এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ রেজা নূর প্রমুখ।