খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ বছর ১০ লাখ টন বোরো চাল সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চাল উৎপাদনে কেজিপ্রতি কৃষকের জন্য মুনাফা ধরা হয়েছে ২ টাকা। এ হিসেবে প্রতি কেজি সিদ্ধ বোরো চাল সংগ্রহ করা হবে ৩৮ টাকা দরে। আর বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে ২৬ টাকা কেজি দরে।
রবিবার দুপুরে সচিবালয়ের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান তিনি।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সিদ্ধ বোরো চাল সংগ্রহ করা হবে আট লাখ টন এবং আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে ১ লাখ টন। বাকি ১ লাখ টন চালের জন্য দেড় লাখ টন বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে। আগামী ২ মে থেকে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে। চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
প্রতি কেজি সিদ্ধ বোরো চাল সংগ্রহ করা হবে ৩৮ টাকা দরে। আর আতপ বোরো চাল সংগ্রহ করা হবে প্রতি কেজি ৩৭ টাকা দরে। বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে ২৬ টাকা কেজি দরে।
তিনি জানান, বৈঠকে এ বছর প্রতিকেজি সিদ্ধ বোরো চালের উৎপাদন খরচ ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরসঙ্গে কৃষকদের ২ টাকা মুনাফা দিয়ে ৩৮ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ বোরো চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বছর দেশে ১ কোটি ৯০ লাখ টন বোরো চাল উৎপাদন হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, দেশে গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ মজুত খাদ্যশস্য (ধান ও চাল) রয়েছে। এর পরিমাণ হচ্ছে ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৮শ’ ৪৭ মেট্রিক টন। এ বছর নির্বাচনের বছর, তারপরেও বন্যা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলেও কোনও সমস্যা হবে না।
এত ধান-চাল উৎপাদন হচ্ছে তারপরেও বাজারে চালের দাম বেশি কেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চালের দাম স্থিতিশীল আছে। সবসময় ভোক্তার স্বার্থ দেখা উচিত নয়, কৃষকের স্বার্থও দেখতে হবে। কৃষকের স্বার্থ চিন্তা না করলে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। কৃষক উৎপাদনবিমুখ হবেন।’
তিনি জানান, এই মুহূর্তে ঢাকায় প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ৪২ টাকা, রাজশাহীতে ৩৭ টাকা, রংপুরে ৩৭ টাকা, চট্টগ্রামে ৩৭ টাকা, খুলনায় ৪০ টাকা, বরিশালে ৩৮ টাকা। তবে বাজারে চিকন চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার সবসময় মোটা চাল সংগ্রহ করে। ধান চাল যখন সংগ্রহ অভিযান চলে তখন ওএমএস কর্মসূচি বন্ধ থাকবে।